শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

সংস্কারের আট মাসেই ফের ভাঙাচোরা বৃটিশ: বাংলাবাজার সড়ক

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯/১০/২০২৬ ১০:১৫:২৩ পূর্বাহ্ন

সংস্কারের আট মাসেই ফের ভাঙাচোরা বৃটিশ: বাংলাবাজার সড়ক


সংস্কারের পর পেরোয়নি এক বছরও। এরই মধ্যে ফের ভেঙে পড়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বৃটিশ–বাংলাবাজার সড়ক। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে জমছে পানি, কাদায় একাকার হচ্ছে সড়ক। ফলে প্রতিদিন এই পথে চলাচলকারী মানুষ ও যানবাহনকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সড়কটির বিভিন্ন অংশের খানাখন্দ সংস্কার করা হয়। এ কাজে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা এবং উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আরও ১৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। সব মিলিয়ে সংস্কারকাজের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৭ লাখ টাকা।

কিন্তু সংস্কারের আট মাস না যেতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে উঠে গেছে পিচ ও কার্পেটিং। স্থানীয়দের দাবি, সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে শতাধিক গর্ত। বর্ষার পানি জমে এসব গর্ত আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এতে উপজেলার অন্যতম বড় হাট বাংলাবাজার এবং বাঁশতলা পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি বাড়ছে। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।

চালকদের অভিযোগ, সড়কের খানাখন্দের কারণে শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও।

সংস্কারের এত অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ফের বেহাল হয়ে পড়ায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের সময় যথাযথ তদারকির ঘাটতি ও অনিয়মের কারণেই সড়কের এমন পরিণতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সংস্কারকাজ চলাকালীন সময় থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম তাদের চোখে পড়ে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাজের মান নিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় একপর্যায়ে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেন। পরে সঠিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দেওয়া হলে আবার সংস্কারকাজ শুরু হয় এবং শেষ করা হয় বলে জানান তারা।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে রড ছাড়াই ঢালাই, নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার, অপরিষ্কার ও মিশ্রিত বালু ব্যবহার এবং খানাখন্দ ভরাটে বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহারের মতো অনিয়ম করা হয়েছে। এসব অনিয়মের তথ্য ও প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন বলেও দাবি তাদের। পরে সঠিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দেওয়ার পর সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়।

পথচারী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয় করে মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তা তৈরি করা হয়। কিন্তু এক বছরও যদি তা টেকসই না হয়, তাহলে সেই কাজের মূল্য কী? এটি জনগণের টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দ্রুত সড়কটির টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করেন। তাই সাময়িকভাবে জোড়াতালি না দিয়ে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, টেকসই কাজ না হওয়ার কারণেই সংস্কারের পরও সড়কটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু সড়কের ওপরের পিচ তুলে নতুন করে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সড়কের নিচের ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে বারবার সংস্কার করেও সড়কটির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল হামিদ বলেন, এস্টিমেট অনুযায়ীই কাজ হয়েছে। যেখানে কাজ করার কথা ছিল, সেখানেই কাজ করা হয়েছে। এখন নতুন জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো সমাধানের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর