জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করাসহ ১০ দফা দাবিতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। রায়পাড়ায় সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয় থেকে লাল পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলফাত উদ্দিন চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টুর সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া।
এ সময় বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি রত্নাঙ্কুর দাস জহর, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, স-মিল শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি আইয়ুবুর রহমান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মিষ্টি ও বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক টিটু দাস, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক সংঘের সভাপতি আব্দুর রউফ, পৌর কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান এবং হকার্স শ্রমিক সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিনন্দ করসহ অন্যরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করায় সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বারবার বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ আরও বেড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় ও জনস্বার্থ উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এনডিএ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকার ওই চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করায় দেশের কৃষি, অর্থনীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি হুমকির মুখে পড়েছে।
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানো, বন্দর ও করিডোর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিল এবং সর্বস্তরের মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও তুলে ধরেন বক্তারা।
সমাবেশে বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতারা। তাঁদের দাবি, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো বিশ্বব্যাপী অতিউৎপাদন সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ হিসেবে যুদ্ধকে সামনে আনছে। পুঁজি ও শক্তির অনুপাতে বিশ্বকে ভাগ-বাটোয়ারার প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাও বাড়ছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের কারণে দেশকে ঘিরে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়ছে বলেও দাবি করেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশকে আগ্রাসী যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 








