কিছু চরিত্র পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করে নেয় দর্শকের হৃদয়ে। সময়ের ব্যবধানেও ফিকে হয় না তাদের আবেদন। তেমনই এক জুটি ‘মনপুরা’র সোনাই-পরী। সিনেমায় তাদের বিচ্ছেদ আর পরীর আত্মহননের বেদনা আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন। এবার সেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ১৭ বছর পর সোনাই-পরীকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।
ক্যামেরার সামনে চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে চঞ্চল চৌধুরীর। অভিনয়জীবনের শুরুতেই ছোটপর্দায় নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়ে দর্শকের মনোযোগ কেড়েছিলেন তিনি। বড়পর্দায়ও সাফল্য পেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি তাঁকে।
২০০৯ সালে গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘মনপুরা’ সিনেমায় সোনাই চরিত্রে অভিনয় করে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলেন চঞ্চল। সিনেমাটিতে সোনাই ও পরীর প্রেম দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছিল। তাঁদের বিচ্ছেদের ঘটনায় আবেগাপ্লুত হন অসংখ্য দর্শক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সেই জুটির আবেদন এখনো রয়েছে।
বুধবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনটি স্থিরচিত্র প্রকাশ করেন চঞ্চল চৌধুরী। ছবিগুলোর একটিতে রয়েছে ‘মনপুরা’ সিনেমায় পরী ও সোনাইয়ের খুনসুটির মুহূর্ত। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায় চঞ্চল চৌধুরী ও তাঁর পরিবারকে। তৃতীয় ছবিতে রয়েছেন পরী চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী ফারহানা মিলি, তাঁর স্বামী ও সন্তান।
ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে ২০০৯ সালের স্মৃতি তুলে ধরে চঞ্চল লেখেন, সময়কাল ২০০৯ ‘মনপুরা’ সিনেমা দেখিবার পর সোনাই-পরীর বিচ্ছেদ, সেইসঙ্গে পরীর আত্মহনন,সোনাইয়ের বেদনা ও কষ্টে অধিকাংশ দর্শকের চোখ ছলছল করিয়াছিল।
সোনাই-পরীর মিলন না হওয়ায় দর্শকের আক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন অভিনেতা। তাঁর ভাষায়, ‘সোনাই-পরীর মিলন হইলো না বলিয়া,কত শত লক্ষ যুবক যুবতী হাহাকার করিয়াছে ইতিহাস তাহার স্বাক্ষী হইয়া আছে!বোধ করি,সোনাই-পরীর একটি ছোট্ট সংসার হইলেও শত কোটি দর্শক আনন্দিত হইতো।’
তবে সিনেমার পর্দায় যে মিলন সম্ভব হয়নি, বাস্তব জীবনে সেই দুই চরিত্রের অভিনয়শিল্পীদের আলাদা সংসার হয়েছে বলে জানান চঞ্চল। তিনি লেখেন, ‘উহা সিনেমার পর্দায় সম্ভব না হইলেও,বাস্তবে সম্ভব হইয়াছে। বাস্তবে সোনাই এবং পরীর আলাদা আলাদা সংসার হইয়াছে,সন্তান হইয়াছে! সিনেমা যে বাস্তব নহে ইহাই একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ!’
সোনাই ও পরী চরিত্রের অভিনয়শিল্পীরা এখন নিজ নিজ সংসারে সুখে রয়েছেন এমন উল্লেখ করে তাঁদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়েছেন চঞ্চল। তিনি লেখেন, ‘সোনাই পরী এখন সংসার জীবনে দীক্ষিত দুইটি আলাদা সংসারী মানুষ। তাহাদের বতর্মান বাস্তবতার ছবি সাক্ষ্য সহকারে জনসমক্ষে প্রকাশ করিলাম। আপনারা তাহাদের সকলের জন্য দোয়া-আশীর্বাদ করিবেন।’
পোস্টের শেষাংশে দর্শকদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অভিনেতা। একই সঙ্গে ‘মনপুরা’ নির্মাণের জন্য পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। চঞ্চল লেখেন, ‘এত বছর পরেও যে আপনারা সোনাই-পরীকে মনে রাখিয়াছেন,তাহার জন্য অসীম কৃতজ্ঞতা। অফুরন্ত কৃতজ্ঞতা নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম মহোদয়কে,সোনাই-পরীর এরকম একটি উপাখ্যান ‘মনপুরা’ নির্মাণের জন্য।’
আজকের সিলেট/ জেকেএস
বিনোদন ডেস্ক 








