আজ শুক্রবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

‘সংরক্ষিত পুরাকৃতি’ এখন অরক্ষিত

  • আপডেট টাইম : September 13, 2017 6:00 AM

বিশেষ প্রতিবেদক, জৈন্তাপুর থেকে ফিরে : প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রকান্ড প্রস্তর নিদর্শন (মেগালিথ) যুগের ধ্বংসাবশেষের জন্য খ্যাত সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা। মেঘালিথ পাথর ছাড়াও এখানে রয়েছে জৈন্তা রাজবাড়ি ও জৈন্তেশ্বরী মন্দির সহ আরো অসংখ্য পত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন। তবে অযত্ন আর অবহেলায় এগুলোর বেশিরভাগই বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে। দখল, চুরি আর নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

জানা যায়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মেগালিথ ধ্বংসাবশেষ একমাত্র জৈন্তাপুরেই পাওয়া গেছে। জৈন্তাপুর রাজবাড়ির পাশেই রয়েছে খৃষ্টপূর্ব প্রায় তিন হাজার বছর পূর্বের সভ্যতার এসব নির্দশন। তবে এগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দূর্লভ এসব পাথর। দখল আর অবৈধ স্থাপনা নির্মানের কারণে নষ্ট হচ্ছে এখানকার পুরাকৃতি।

সরেজমিনে জৈন্তাপুর গিয়ে দেখা যায়, পুরাকৃতিগুলোর সামনে পত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের একটি সাইনবোর্ড টানানো। এখানকার পত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকে ‘সংরক্ষিত পুরাকৃতি’ ঘোষণা দিয়ে যাতে লেখা রয়েছে- ‘কোনো ব্যক্তি এসব পুরাকীর্তির কোনো রকম ধ্বংস বা ক্ষতি সাধন করলে বা এর বিকৃতি বা অঙ্গচ্ছেদ ঘটালে, কোনো অংশের উপর কিছু লিখলে, খোদাই করলে, চিহ্ন বা দাগ কাটলে পুরাকৃতি সংরক্ষ আইনে দন্ডিত হবেন।’

বহু পুরনো হয়ে এই সাইনবোর্ডটিও এখন জরাজীর্ন। অনেক লেখা পড়াই যায় না। আর পেছনেই পুরাকীর্তিরগুলোর অবস্থা তো আরো খারাপ। ‘সংরক্ষিত পুরাকৃতি’ নয়, যেনো ময়লা আবর্জনার ভাগাড়। নষ্ট হয়ে পড়া গাড়ি ও সব ধরণের আবজর্না ফেলে রাখা হয়েছে পুরাকৃতিগুলোর চারপাশে। আগাছা জমে জঙ্গল হয়ে পড়েছে চারপাশ। আর পুরাকৃতির গায়ে কারাবন্দি নেতার মুক্তি দাবি থেকে শুরু পুরুষত্বহীনতার সমাধান আবিষ্কার ঘোষণা- সব ধরণের পোষ্টারে ছয়লাভ। চারপাশে ছড়িয়ে আছে নেশাজাতীয় দ্রব্যের পরিত্যক্ত বোতল, কাগজ। রাত হলেই এই এলাকায় নেশার আসর বসে বলে জানান স্থানীয়রা।

জৈন্তাপুরের চাঙ্গিল এলাকায় মেঘালিথ পাথরের স্মৃতিস্তম্ভগুলো দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ ওয়ার্কশপ, ভলগানাইজিং সেন্টারসহ নানা স্থাপনা। এছাড়া বিভিন্ন সভা-সমাবেশের আয়োজন করা হয় এই সংরক্ষিত পুরাকৃতির ভূমিতে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্যা হেরিটেজ এন্ড এনভায়রনমেন্টের সমন্বয়কারী আব্দুল হাই আল হাদী বলেন, এখানে যে মেঘালিত পাথর রয়েছে তা বাংলাদেশে আর কোথাও তো নেই-ই পুরো উপমহাদেশেই বিরল। এছাড়া জৈন্তাপুরের রাজবাড়ি, জৈন্তেশ্বরীর বাড়ি, বড়দেউল, ঢুপিমঠ এগুলো গুরুত্বপূর্ণ পত্নতাত্ত্বিক নির্দশন। এগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা খুবই জরুরী। অথচ অযত্ন আর অবহেলায় এসব আজ বিলুপ্ত প্রায়। পত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে একজন রক্ষণাবেক্ষণকারী নিয়োগ দেওয়া হলেও তার পক্ষে একা সব নজরদারি সম্ভব নয়। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণূ নিদর্শন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জৈন্তেশ্বরী বাড়ির দেওয়ালে অনেক খোদাই চিত্র ছিলো। যেগুলো প্রাচীণ সভ্যতার নিদর্শন। সংরক্ষণের অভাবে দেওয়ালই ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া দখল ও চুরি হয়ে যাওয়া তো আছেই।

তিনি সিলেটে পত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় চালু, পুরাকৃতিগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগ ও স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির দাবি জানান।

জৈন্তাপুর পর্যটন বিকাশ ও পত্মতাত্বিক সম্পদ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাই এসব সম্পদ বিনষ্টের প্রধান কারন। এগুলো রক্ষনাবেক্ষনে আমরা পত্মতত্ত্ব বিভাগে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এখনো তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

(আজকের সিলেট/১৩ সেপ্টেম্বর/ডি/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ