আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও দুষ্কৃতিকারীদের দমনে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এসএমপি। ইতিমধ্যে সেসব নির্দেশনা এসএমপির সকল অতিরিক্ত কমিশনার ও উপ কমিশনারদের নিকট পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেসকল ‘কনফিডেন্সিয়াল’ সিদ্ধান্ত সমূহ স্যোসাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছে পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এতে করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। আর এসএমপিতে ঘাপটি মেরে বসে থাকা পলাতক আওয়ামীলীগের দোসররা এর সাথে জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে তাহলে পুলিশের ভেতরে এখনো কি আওয়ামী দোসরদের অবস্থান রয়েছে? তা না হলে পুরো নথিটি ফাঁস না করে কেবল আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট অংশই কেন ফাঁস করা হলো? আর পুলিশ বলছে, এটি কীভাবে ফাঁস করা হয়েছে, কারা ফাঁস করেছে সবকিছুই অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং একজন উপ কমিশনারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নবাগত কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী এসএমপিতে যোগদানের পর থেকে নগরীর আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে তিনি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। কিন্তু এসএমপির বেশ কিছু ক কর্মকর্তা কমিশনারকে সহযোগীতা করছেন না। এতে করে স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘঠছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের দোসর কিছু অসাধু কর্মকর্তারা।
প্রশাসনিক নথি বা অফিস আদেশ কিংবা অভ্যন্তরীণ সভার কার্যবিবরণী ফাঁস হওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। সাধারণত এসব তথ্য কেবল সংশ্লিষ্ট বা নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এই ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণে একটি বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে। এটি অফিসিয়াল সিক্রেসী এ্যক্টে মারাত্মক অপরাধ।
সচেতনমহল মনে করছেন, একটি নগরের আইনশৃংঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতেই পারে। তবে এর তথ্য ফাঁস এক ধরনের নাশকতামূলক কাজ। একটি পুলিশ বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য করা হয়েছে। এতে করে আইনশংঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে সভার কার্যবিবরণীর শুধুমাত্র ১৩ নম্বর ও সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি এসএমপিতে ঘাপটিমেরে থাকা পতিত আওয়ামীসমর্থক কিছু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ওই নির্দেশনায় লেখা রয়েছে, ‘ডিসেম্বর/২০২৫ খ্রি. মধ্যে এসএমপির আওতাধীন এলাকায় কোনো আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের লোকজন প্রকাশ্যে যাতে এলাকায় না থাকতে পারে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সব অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এসি, এডিসি ও ডিসিরা এ বিষয়ে তদারকি করবেন।’ সভার পর পরই এসএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এসব নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
ফাঁস হওয়া কার্যবিবরণীর ১৩ নম্বর ও সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি হলুদ রঙের মার্কার দিয়ে হাইলাইট করা এবং এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিসি দক্ষিণ লেখাটিও একই রঙে চিহ্নিত করা। তাছাড়াও অনুলিপি যাদের কাছে পাঠানো হয়েছে সেখানেও উপপুলিশ কমিশনারের (দক্ষিণ) নামে ঠিক চিহ্ন দেওয়া। ধারণা করা হচ্ছে এই নথিটি এসএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এর কার্যালয় থেকেই ফাঁস করা হয়েছে। নতুবা চিঠি পাঠানোর সময় কোনো মাধ্যমে এটি ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এখনো দলীয় আনুগত্যের বিভাজনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দলীয় দোসররা শুধু অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তাই ক্ষুণ্ন করছেন না, বরং সরকারের প্রতি জনআস্থা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে পুলিশ কমিশনারের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি নির্দেশনাকে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ বলছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই নির্দেশনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার এসএমপির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
এসএমপির মূখপাত্র ও উপ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, স্যোসাল মিডিয়ায় প্রকৃত তথ্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এঘটনার সাথে জড়িতদের চিহিৃত করতে ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পেলেই বিস্তারিত জানা যাবে।
আজকের সিলেট/এসটি
বিশেষ প্রতিবেদক 








