নগরীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিচ্ছিন্ন করা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে রিকশা–ভ্যান–ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন, সিলেট জেলা।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর আম্বরখানা থেকে মিছিলসহ শ্রমিকরা সমাবেশস্থলে যান। পথে তারা “রিকশা ফিরিয়ে দাও”, “লাইসেন্স দাও”, “কর্মসংস্থান সৃষ্টি করো”— এসব স্লোগান দিতে দিতে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে পৌঁছান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত অন্যায় ও অমানবিক। এটি প্রত্যাহার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। বক্তারা জানান, এই বাহন পরিবেশবান্ধব এবং নিম্নআয়ের হাজারো শ্রমিক পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। প্রশাসনের সিদ্ধান্তে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এর আগে সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একই দাবি তোলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাসরুখ জলিল। তিনি বলেন, “ব্যাটারি চালিত রিকশা শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে। এমনকি ছাত্র–জনতার আন্দোলনে ২৪ জন রিকশাচালক জীবন দিয়েছেন।
তার অভিযোগ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই বাহনকে অপপ্রচার চালিয়ে অবৈধ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের উচিত ছিল বিআরটিএর মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন ও লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করা।
সংগঠনের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটক যানবাহন ফেরত দেওয়া, চার্জিং গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন, রিকশার লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন চালু করা, শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সিলেট মহানগরীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচল বন্ধে অভিযান শুরু করে পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে বহু রিকশা জব্দ এবং একাধিক চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
দাবি আদায়ে অনড় শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন।
তাদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে নগরজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আজকের সিলেট/এপি
নিউজ ডেস্ক 








