সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর বাজারে সুরমা নদীর তীর দখল করে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জয়নগর গোদারাঘাটের পশ্চিমে ও পরিত্যক্ত সেলুঘাটের পূর্ব দিকে নদীর তীর ভরাট করে ইতোমধ্যে স্থায়ী পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন দখলদাররা। কেউ কেউ নির্মাণ করেছেন দ্বিতল ভবনও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জয়নগর পূর্ব গোদারাঘাটের পশ্চিম থেকে মসজিদের পশ্চিম পর্যন্ত নদীর তীরের অর্ধ শতাধিক জায়গা দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বরং বাজার কমিটির সহযোগিতায় প্রভাবশালীরা নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, পরিত্যক্ত সেলুঘাটের আশপাশে অল্প কিছু জায়গায় কয়েকজন অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে নদীর তীর দখলের প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ রয়েছে, স্থায়ী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বাজার কমিটি ওই ২-৩ জন অস্থায়ী স্থাপনাকারীর বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলুঘাটের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বাণীপুরের দুটি প্রভাবশালী পরিবার নদীর তীর দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের সময় কেউ বাধা দেয়নি। এখন ওই স্থায়ী দখলদারদের রক্ষা করতেই অস্থায়ী স্থাপনাকারীদের বিরুদ্ধে নানা তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, অস্থায়ী স্থাপনাকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে জয়নগর বাজারের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য মামলা করা হয়েছিল। তবে নদীর তীর দখলকারীরা উচ্ছেদ ঠেকাতে ওই মামলাটি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আকিকুল ইসলাম বলেন, পরিত্যক্ত গোদারাঘাটের পূর্ব ও পশ্চিমে নদীর তীর দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলে কোনো বাছবিচার না করে সব দখলদারের স্থাপনাই অপসারণ করতে হবে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, জয়নগর বাজারের সেলুঘাটের আশপাশসহ বাজারের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের খবর তারা পেয়েছেন। উচ্ছেদ বা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সব দখলদারের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 








