প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে টিটু-হাওয়ার সংসার, তবু পরিবারের স্বীকৃতির অপেক্ষা
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ PM

প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে টিটু-হাওয়ার সংসার, তবু পরিবারের স্বীকৃতির অপেক্ষা

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫/০৯/২০২৬ ১০:৫৩:১২ AM

প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে টিটু-হাওয়ার সংসার, তবু পরিবারের স্বীকৃতির অপেক্ষা


শারীরিক সীমাবদ্ধতা ভালোবাসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের যুবক টিটু মিয়া (৩০) ও বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণী হাওয়া আক্তারের (২৭) ক্ষেত্রে। পরিচয়ের পর ভালো লাগা, ইশারা-ভাষায় ভাবের আদান-প্রদান এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ের মধ্য দিয়ে তারা গড়েছেন দাম্পত্য জীবন। টিটুর এই সিদ্ধান্তকে ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চামরদানী ইউনিয়নের টেপিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা টিটু মিয়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে খালার বাড়িতে বেড়াতে দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে যান। সেখানেই প্রতিবেশী মৃত মৌলা মিয়ার মেয়ে হাওয়া আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী হাওয়াকে প্রথম দেখাতেই পছন্দ হয় টিটুর। এরপর ইশারা-ভাষার মাধ্যমে দুজনের মধ্যে যোগাযোগ ও বোঝাপড়া তৈরি হয়।

হাওয়ার সম্মতি পাওয়ার পর টিটু আর দেরি করেননি। ভালোবাসার টানে কোনো ধরনের যৌতুক ছাড়াই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরে স্থানীয় কাজী সিরাজুল হকের মাধ্যমে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে শারীরিক সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। কথা বলা কিংবা শোনার সক্ষমতা না থাকলেও চোখের দৃষ্টি ও হাতের ইশারায় স্বামীর মনের কথা বুঝে নেন হাওয়া আক্তার। সংসারের কাজেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছেন তিনি। বসতঘর পরিষ্কার থেকে শুরু করে গবাদিপশুর যত্ন নেওয়া এবং রান্নার জ্বালানি প্রস্তুতের মতো পরিশ্রমের কাজ নিয়মিত করছেন।

তবে তাদের দাম্পত্য জীবনে স্বস্তির পাশাপাশি রয়েছে পারিবারিক টানাপোড়েনও। দরিদ্র পরিবারের মধ্যে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত এবং কনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি নিয়ে টিটুর ছোট ভাইবোন ও অন্যান্য স্বজন এখনো বিয়েটি মেনে নেননি। যদিও টিটুর বাবা এতে সম্মতি দিয়েছেন। এ কারণে বিয়ের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও স্ত্রীকে নিজের পৈতৃক ভিটায় নিয়ে যেতে পারেননি টিটু। বর্তমানে শাশুড়ির জরাজীর্ণ ঘরেই বসবাস করছেন তারা।

টিটুর বাবা কাছা মিয়া বলেন, বিয়ে খোদার প্রদত্ত ভাগ্য। ছেলে যাকে পছন্দ করেছে, সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুব শিগগিরই পুত্রবধূকে নিজের ঘরে তুলে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন এই দম্পতির পাশে দাঁড়াতে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতারও আহ্বান জানিয়েছেন কাছা মিয়া।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, হাওয়া আক্তার ও তার ভাই বর্তমানে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর