ছবি : মো. সোহেল মিয়া
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সীমান্তবর্তী সাতটি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার পর এবার সিলেটের প্রধান নদী সুরমার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ছড়ার পানি উপচে সিলেট নগরীতে প্রবেশ করছে পানি।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, বাগবাড়ি, জামতলা, তালতলাস্থ ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়, তোপখানা এলাকা সহ মহানগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা সহ নগরীর বিভিন্ন জায়গা প্রবেশ করেছে পানি। এরআগে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাতে নগরীর তালতলাস্থ একটি ছড়ার পানি উপচে সিলেটের ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপরই ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে শুক্রবার ৬টা পর্যন্ত সিলেটে প্রায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ০ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীটির কানাইঘাট পয়েন্ট, কুশিয়ারা দুটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট।
এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়ায় জরুরি সভা করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সিটি মেয়র মো.আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো.মখলিছুর রহমান কামরানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে ওই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী প্রেরণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার কাজের জন্য নৌকার ব্যবস্থা, নিম্নাঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, উপ-কেন্দ্রগুলো বন্যার পানিতে যাতে ডুবে না যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সহযোগিতা প্রদান, নগরবাসীর জরুরি সেবার জন্য ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুম চালুসহ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে রান্না করা খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সভায় জনস্বার্থে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩টন চিড়া, ৩টন মুড়ি, গুড়, খাবার পানি, পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট এবং ওরস্যালাইন ক্রয় করা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানান, সিসিক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়র মখলিছুর রহমান কামরানের সাথে আলোচনা করে জরুরি সভা আহ্বানের নির্দেশনা প্রদান করেন এবং ইতিমধ্যে জরুরি ত্রাণ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সাথেও আলোচনা করেছেন। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য্য ও সাহসের সাথে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এছাড়াও তিনি মসজিদ, মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় বিশেষ মোনাজাত-প্রার্থনা করার জন্য নগরবাসীর কাছে অনুরোধ জানান।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, সুরমা নদীতে পানি বেড়েছে এবং সকালে আমরা গিয়ে দেখলাম- পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নগরের কাজিরবাজারসহ যেসব ড্রেন সুরমায় পড়েছে সেসব ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশনের বদলে উল্টো পানি ঢুকছে। এর জন্য কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে যদি আজ দিনের বেলা বৃষ্টি না হয় তবে সে পানি নেমে যাবে। সকল পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে সিটি করপোরেশন।
যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাহায্যের জন্য ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুম (০১৯৫৮-২৮৪৮০০) অথবা ভারপ্রাপ্ত মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
আজকের সিলেট/জেকেএস
নিজস্ব প্রতিবেদক 








