আজ মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

দল পরিবর্তন করছেন জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল!

  • আপডেট টাইম : মার্চ ১৩, ২০১৮ ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জয়নাল আবেদীন। সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা (উত্তর) জামায়াতের সহ-সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় যোগ দিয়েছিলেন জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। কিন্তু দিনদিন জাসদের সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার পরে নাম লেখান ছাত্র শিবিেরের রাজনীতিতে। শিবির থেকে জামায়াত, আর এতেই ভাগ্য পরিবর্তনের দুয়ারখুলে জয়নালের। জামায়াতের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার সুবাদে সোনারগাঁ আবাসিক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পান তিনি। এখানে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টার করেন। নিজের ইচ্ছেমত চেয়ারম্যন নিয়োগ দেন আবার পরিবর্তনও করেন। আর সোনারগাঁ-এর নামে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার বিস্তর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এনিয়ে বিস্তারিত থাকছে নিউজটির আগামী কোন এক পর্বে।

সূত্রমতে, উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই আচরণগত বেশ পরিবর্তন আসে জয়নাল আবেদীনের মধ্যে। দিন দিন নিজ দলের নেতাকর্মীদের সাথে শুরু হয় দুরত্ব। নিজ দল রেখে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জমিয়তের সাথে ঘনিস্ট সম্পর্ক গড়তে ব্যস্থ সময় পার করেন তিনি। এনিয়ে একদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে, অন্যদিকে সাধারণ জনগনও হচ্ছেন বিভ্রান্ত। তিনি আসলেই কি দল পরিবর্তন করছেন? না নিজেকে বাঁচাতে এই কৌশল অবলম্বন করছেন? এমন প্রশ্নঘুরপাক খাচ্ছে জৈন্তাপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে।

সর্বশেষ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জৈন্তাপুর উপজেলার আমবাড়ি এলাকায় ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে একজন নিহত এবং প্রায় ৪৫টি বাড়ি জালিয়ে দেয়ার ঘটনায় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে এখন সমালোচনা চলছে সর্বত্র। আমবাড়ি এলাকাবাসী সহ উপজেলাবাসী (হরিপুর মাদ্রসা কেন্দ্রীক জমিয়তের একটি অংশ ছাড়া) তার ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্দ। এনিয়ে উপজেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আমবাড়িতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতের আধারে হরিপুর থেকে সদলবল নিয়ে একটি পক্ষ আমবাড়ির দিকে অগ্রসর হয়। এসময় জৈন্তাপুর মডেল থানার সামনে তাদেরকে আটকে দেয় পুলিশ। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের তাৎক্ষণিক বিতর্কিত ভূমিকায় তাদের পথ ছেড়ে দেয় পুলিশ। আর এতেই জালিয়ে দেয়া হয় পুরো গ্রাম । এঘটনার পর হতাহতদের সাথে সাক্ষাত করলেও বাড়িঘর পুড়ে যাওয়াদের ধারে কাছেও যাননি উপজেলা চেয়ারম্যান। বরং নিহতের ঘটনার প্রতিবাদ কর্মসূচীতে নিয়মিত অংশগ্রহন করনে তিনি। এমনকি জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও দেখা যায়নি তাকে। এনিয়ে ক্ষোভ বাড়ে আমবাড়িবাসীদের মধ্যে। অবশেষে ঘটনার এক সপ্তাহ পর ১৭ পরগনার সালিশ সমন্বয় কমিটির সভাপতি আবুল চৌধুরীকে নিয়ে আমবাড়ি যান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা জামায়াতের একাধিক সক্রিয় কর্মী জানান, জনপ্রতিনিধি একটি নিরপক্ষ ও সর্বজনিন পদবী। যেকোন অনাকাংখিত ঘটনা ঘটলে জনপ্রতিনিধি কারো পক্ষ নেয়া সমিচিন নয়। এতে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি সাধারণ মানুষের যেমন আস্থা সংকট দেখা দেয় তেমনি দলও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

স্থানীয় শিবির নেতারা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান এখন ভূলে গেছেন তিনি জামায়াতের মনোনয়নেই এই চেয়ার পেয়েছেন। তিনি যেভাবে জমিয়ত সমর্থিত কর্মসূচীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন এতে আগামী নির্বাচনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। অবস্থাদৃস্টে মনে হচ্ছে তিনি মনে হয় জমিয়তেই যোগদান করবেন।

স্থানীয় এক জমায়াত নেতার মতে, নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যেভাবে অন্যদলের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলছেন তা সংগঠন কোন ভাবেই সমর্থন করেনা। তিনি আদৌ সংগঠনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছেন কি না তা সন্দেহের বিষয়।

সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। এমনকি এসএমএস করেও সাড়া পাওয়া যায় নি।

(আজকের সিলেট/১৩ মার্চ/ডি/এমকে/ঘ.)

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ...