সিলেট চেম্বার নির্বাচন : স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কৃতিত্ব কার?
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৬:৩৮ PM

সিলেট চেম্বার নির্বাচন : স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কৃতিত্ব কার?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১/১০/২০২৫ ০৯:৩৭:০১ AM

সিলেট চেম্বার নির্বাচন : স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কৃতিত্ব কার?


সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা রকমের বাগবিতণ্ডা। নির্বাচন স্থগিত করা ও ফের রিট করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি দুটি প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে চলছে টানাটানি। এখন প্রশ্ন উঠেছে কোন কারণে নির্বাচন স্থগিত করানো হলো, এর নেপথ্যে কারা? 

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, যদিও নির্বাচন স্থগিতের নেপথ্যে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামকে দায়ি করে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। কিন্তু শুরু থেকেই সেটি অস্বীকার করছেন ব্যবসায়ী ফোরামের প্রার্থীরা। এবার উচ্চ আদালত থেকে নির্বাচনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার নিয়েও এখন চলছে টানা-হেঁচড়া। ব্যবসায়ী ফোরামের দাবি-হাইকোর্টে তারা প্রথম রিট করেন এবং তাদের রিটের প্রেক্ষিতেই বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন হাইকোর্ট।

অন্যদিকে, সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীরাও দাবি করেছেন তাদের রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছেন। সব কিছুকে পেছনে ফেলে ফের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেল। এবার চোখ চেম্বারের প্রশাসকের দিকে। কবে হবে নির্বাচন-এই প্রশ্ন এখন প্রার্থীদের মধ্যে।

অবশ্য চেম্বার প্রশাসক বলছেন, আগামীকাল শনিবার কোনোভাবেই নির্বাচন সম্ভব নয়। আদেশ হাতে পেলে দ্রুত তারিখ নির্ধারণ করা হবে। 

সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের পরিচালক পদপ্রার্থী আবদুর রহমান রিপন বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমাদের রিটের কাগজ সুতরাং ব্যবসায়ী ফোরাম থেকেই প্রথমে হাইকোর্টে রিটটা করা হয়েছিল। তাই সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক, মহামান্য হাইকোট রায় দিয়েছেন আগামী ১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ ও ব্যবসায়ী ফোরাম দুই প্যানেলই উচ্চ আদালতে নির্বাচনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে রিট করেছেন। 

দুটি প্যানেলের দাখিল করা রিট ঘেঁটে দেখা গেছে, সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম রিট পিটিশন জমা দেয় ২৮ অক্টোবর এবং সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ রিট পিটিশন জমা দেয় ২৭ অক্টোবর। সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের রিটের নম্বর ১৭৬০৬ এবং ব্যবসায়ী ফোরামের করা রিটের নম্বর ১৭৬৮৩। 

সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, আপনারা দেখবেন কারা আগে রিট পিটিশন করেছেন, সেটার একটা নাম্বার দেয়া রয়েছে, আমাদের নাম্বার হল ১৭৬০৬ এবং তাদের রিট পিটিশন নাম্বার হল ১৭৬৮৩। তাহলে বুঝেই ফেলতে পারতেছেন কারটা আগে। এখন মিথ্যা বলে নিজেকে এগিয়ে জয়ী হতে চাইলে আমাদের কিছুই করার নাই। তাই এখন বিষয়টা আগে আর পরের নয় নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে এসেছে সেটাই মূল বিষয়। আমরা নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ায় মহামান্য হাইকোর্টের কাছে কৃতজ্ঞ।

আর সিলেট ব্যবাসীয় ফোরামের সভাপতি প্রার্থী এখতেশামুল চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে আসায় আমরা সবাই খুশি। তবে নির্বাচনে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে রিট কারা আগে করেছেন এটা মূল বিষয় না, এখানে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ নিয়ে যারা কথা বলেছেন ব্যবসায়ীদের ভালো নিয়ে যারা কাজ করেছেন সেটি দেখার বিষয়। হ্যা ওই প্যানেলের রিট পিটিশন দাখিল নাম্বার আমাদের আগে তবে এটা বড় কোন বিষয় না।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রিজের প্রশাসক সাঈদা পারভীন বলেন, আদেশের এখনও হাতে আসেনি। আর কপি হাতে পেলেও শনিবার নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে আদেশের কপি হাতে পেলেই আমরা দ্রুত পরবর্তী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজন করবো।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর