জিয়া থেকে তারেক : ৪৮ বছরে বিএনপির নেতৃত্বের পরিবর্তন, সামনে যত চ্যালেঞ্জ
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ AM

জিয়া থেকে তারেক : ৪৮ বছরে বিএনপির নেতৃত্বের পরিবর্তন, সামনে যত চ্যালেঞ্জ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১/০৯/২০২৬ ০৯:৫৮:৪৪ AM

জিয়া থেকে তারেক : ৪৮ বছরে বিএনপির নেতৃত্বের পরিবর্তন, সামনে যত চ্যালেঞ্জ


৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি দীর্ঘ সময়ে কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, আবার কখনো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রাজনীতি করেছে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর বর্তমানে দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন তাদের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকার পর ক্ষমতায় ফেরার এই সময়ে দলটির সামনে তাই সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনগণের আস্থা ধরে রাখা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যাত্রা

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার ধারণাকে সামনে রেখে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মসূচিতে ছিল ১৯ দফা।

বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও পথের মানুষকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে দ্রুত বিএনপিকে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন জিয়াউর রহমান। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে তার নিহত হওয়ার পর দলটি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ‘গৃহবধূ’ খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্বে আসেন।

খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্ব

১৯৮২ সালে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন খালেদা জিয়া। পরের বছর ১৯৮৩ সালে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। এরপর ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৪২ বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। চার দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই নেত্রীর নেতৃত্বে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দলটি বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি দীর্ঘ আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

রাজনীতি থেকে নেতৃত্বের কেন্দ্রে তারেক রহমান

বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মায়ের সঙ্গে রাজপথে অংশ নেন তারেক রহমান। ১৯৮৮ সালে দলের বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণায় অংশ নেন তারেক রহমান। এরপর ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি। ওই সম্মেলনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। বগুড়ার ওই সম্মেলনের পর অন্যান্য জেলা ইউনিটকেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা নির্বাচনে উৎসাহিত করেন তিনি।

২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে। ২০০৫ সালে দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় ২০০৭ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরে বিদেশে চিকিৎসা নিতে নির্বাসিত হন। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি হলে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়।

এরপর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন তিনি। ২০২৬ সালে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসে।

তিন প্রজন্মে বিএনপির রাজনৈতিক পথচলা

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসকে মূলত তিনটি নেতৃত্ব পর্বে ভাগ করা যায়। প্রথম পর্বে জিয়াউর রহমান দল প্রতিষ্ঠা করে এর রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেন। দ্বিতীয় পর্বে খালেদা জিয়া বিএনপিকে গণভিত্তিক ও নির্বাচনী শক্তিতে পরিণত করেন। আর তৃতীয় পর্বে তারেক রহমান দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতির পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন।

এখন ক্ষমতায় এসে সেই নেতৃত্বের সামনে বড় প্রশ্ন হলো দলীয় সংগঠন কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া শূন্যতা অপূরণীয়। তবে তার রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শ ধারণ করে বর্তমান নেতৃত্ব একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যেতে চায়।

তার ভাষ্য, ৪৮ বছরের রাজনৈতিক যাত্রায় বিএনপির আন্দোলন, নির্বাচন, সরকার পরিচালনা এবং বিরোধী রাজনীতির অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরে আসার কারণে এবার দলটি ভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি।

তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, তৃণমূলের প্রত্যাশা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্ষমতায় এসে যে চ্যালেঞ্জগুলো সামনে

সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের জন্য সরকার ও দলকে আলাদা রেখে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা। বিরোধী দলে থাকার সময় যে রাজনৈতিক কৌশল কার্যকর ছিল, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তা একইভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

সরকারের সিদ্ধান্তের দায় যেমন সরকারের ওপর বর্তাবে, তেমনি দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডও দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় প্রভাব বিস্তার, সরকারি প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ কিংবা দলীয় পরিচয়ে সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসন ও দলীয় সংগঠনকে পৃথক রেখে শৃঙ্খলা বজায় রাখা তারেক রহমানের নেতৃত্বের অন্যতম বড় পরীক্ষা।

তৃণমূলে গ্রুপিং ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব

দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকার পর ক্ষমতায় এসে পদ-পদবি, মনোনয়ন, প্রভাব ও সুযোগ-সুবিধাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতা দেখা দিতে পারে। একই এলাকায় একাধিক নেতা নিজেদের অনুসারী তৈরি করলে সাংগঠনিক বিভক্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন এবং দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পড়তে পারে। এ কারণে তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি গ্রুপিং নিয়ন্ত্রণেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

পুরোনো-নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়

বিএনপির সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীরাও এখন দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে প্রজন্মের পরিবর্তনের সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কর্মকৌশলেও পরিবর্তন আসছে। ফলে প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অক্ষুণ্ন রেখে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগঠনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি

ক্ষমতায় থাকার সময় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের পরিধি স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। কোনো নেতার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড কিংবা অনিয়মের অভিযোগও শেষ পর্যন্ত দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আনুগত্য এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা দেখানো বিএনপির জন্য জরুরি। দলীয় জবাবদিহি দুর্বল হলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনও বড় অগ্রাধিকার

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মনে করেন, বর্তমান সময়ে দলটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশকে নতুন করে পুনর্গঠন করা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক শূন্যতার সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি জিয়াউর রহমানের চিন্তা ও আদর্শ।

নিতাই রায় চৌধুরীর মতে, দীর্ঘ সময়ে দেশের অর্থনীতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে এখন স্বাধীন, কার্যকর ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ। অপসংস্কৃতি ও মৌলবাদী চিন্তার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করে সুস্থ, মুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

নিতাই রায় চৌধুরীর ভাষায়, রাষ্ট্র পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত।

জনগণের আস্থা ধরে রাখাও পরীক্ষা

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখাও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলে থাকার সময় জনসম্পৃক্ততা ছিল দলটির রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে সেই সম্পর্ক একইভাবে ধরে রাখা সহজ নয়।

দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে তার প্রভাব শুধু সরকারের ওপর নয়, বিএনপির জনপ্রিয়তার ওপরও পড়তে পারে।

৪৮ বছর পর নতুন অধ্যায়

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাই শুধু দলটির অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণের বিষয় নয়; একই সঙ্গে এটি নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনাকেও সামনে আনছে। জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতা ও বিরোধী রাজনীতির মধ্য দিয়ে পথ চলেছে। এখন তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্বে সেই দলের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে।

দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতির পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির সামনে মূল পরীক্ষাগুলো হলো—সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, তৃণমূলের দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করা।

সবশেষে বিএনপির নেতাদের বক্তব্য ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো ৪৮ বছরের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা পেরিয়ে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা দলটির সবচেয়ে বড় মূল্যায়ন হবে তারেক রহমান কীভাবে সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব সরকার পরিচালনা করেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর