বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত সিলেটের শিল্পাঞ্চল, বাড়ছে লোকসান
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ PM

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত সিলেটের শিল্পাঞ্চল, বাড়ছে লোকসান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১/০৯/২০২৬ ১০:১৫:১১ AM

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত সিলেটের শিল্পাঞ্চল, বাড়ছে লোকসান


ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামায় সিলেটের শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে ভোল্টেজের ওঠানামায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ক্ষতি।

শিল্প মালিকদের অভিযোগ, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে নগরীর গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীতে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ বার করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। কোনো কোনো দিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। বিদ্যুৎ থাকলেও ভোল্টেজ স্থির না থাকায় যন্ত্রপাতি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছে বিসিক শিল্প মালিক সমিতি। চিঠিতে গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীতে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কারখানায় সাধারণত প্রতিদিন আট ঘণ্টা উৎপাদন কার্যক্রম চলে। কিন্তু বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে বর্তমানে কার্যকরভাবে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ অব্যবহৃত থাকছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়। আবার ভোল্টেজ কমে যাওয়া বা ওঠানামা করলেও মেশিন সচল রাখা সম্ভব হয় না। দীর্ঘ সময় এ ধরনের পরিস্থিতি চললে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। তখন মেরামত কিংবা নতুন যন্ত্রাংশ কেনার পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সব ধরনের মেশিন জেনারেটরের মাধ্যমে চালানোও সম্ভব নয় বলে জানান তারা।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নেই। উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্যাংকঋণের কিস্তি, সরকারি কর ও কারখানার নিয়মিত ব্যয় মেটানো নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি শিল্প উদ্যোক্তাদের।

তামাম পিভিসি ইন্ডাস্ট্রির প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, ‘ছোট প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের যে হারে ক্ষতি হচ্ছে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোরও একই আনুপাতিক হারে ক্ষতি হচ্ছে। তাই শিল্পাঞ্চলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিসিক শিল্প মালিক সমিতি সিলেটের সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে বারবার ভোল্টেজ ওঠানামা করছে। এতে একদিকে ঠিকমতো মেশিন চালানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে মেশিন বিকল হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক মাসে মেশিন বিকল হওয়ায় বেশ ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আরও ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।’

এ অবস্থায় শিল্পাঞ্চলে বিশেষ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বিসিক শিল্প মালিক সমিতি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেটের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিতভাবেও আবেদন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগর ও আশপাশের শহরাঞ্চলে পিডিবির আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৭০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট। জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় চাহিদা প্রায় ৩০৭ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে বর্তমানে সিলেটে ১৪০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সিলেট পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয় জাতীয় ইস্য।’ তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগের তুলনায় এখন অনেকটা উন্নতি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর