হবিগঞ্জে ৮ মাসে ১০৪ সংঘর্ষ, নিহত ১৯ ও আহত ৮০৭
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ PM

হবিগঞ্জে ৮ মাসে ১০৪ সংঘর্ষ, নিহত ১৯ ও আহত ৮০৭

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮/০৯/২০২৬ ১০:২৯:৩২ AM

হবিগঞ্জে ৮ মাসে ১০৪ সংঘর্ষ, নিহত ১৯ ও আহত ৮০৭


ফুটবল খেলা, শিশুদের ঝগড়া, জমি নিয়ে বিরোধ কিংবা সালিশ বৈঠাল এমন তুচ্ছ ঘটনাও হবিগঞ্জে কখনো কখনো বড় ধরনের সংঘর্ষের কারণ হয়ে উঠছে। দুই পক্ষের বিরোধ মুহূর্তেই রূপ নিচ্ছে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে। এতে প্রাণহানি ও আহতের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে হবিগঞ্জ জেলায় ১০৪টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৮০৭ জন। আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতর আহত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকেও ছিটকে পড়েছেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি ঘটনাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর বাহুবলের মিরপুর বাজারে ফুটবল খেলার সময়সূচি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলে সংঘর্ষ। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকানপাটেও ভাঙচুর করা হয়।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে, ৩০ আগস্ট বানিয়াচংয়ে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মাইকিং করে ছয়টি মহল্লার মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হন।

গ্রাম কিংবা বাজারের বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সালিশ বৈঠকও এসব সংঘাত থেকে বাদ যাচ্ছে না। গত ১৯ আগস্ট হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

মাধবপুরের বুল্লা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের সালিশ বৈঠকও সংঘর্ষে গড়ায়। গত ৭ এপ্রিলের ওই ঘটনায় মোহাম্মদ আলী নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন এবং আহত হন ৩০ জন।

এ ছাড়া গত ১৫ জুন বাহুবলে কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে সেলু মিয়া ও হেলাল মিয়া নামে দুই ব্যক্তি নিহত হন। ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ, ফুটবল ম্যাচের সমর্থকদের বিরোধ এবং ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর হবিগঞ্জে ৯৫টি সংঘর্ষের ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আহত হয়েছিলেন। সেই তুলনায় চলতি বছরও সংঘাতের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল বলেন, হবিগঞ্জ আশঙ্কাজনকভাবে দাঙ্গাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর উদ্দিন আহমেদ শাহীন মনে করেন, সামান্য বিরোধের জেরে একটি পুরো গ্রাম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ার প্রবণতা সামাজিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। সংঘাত কমাতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিভিন্ন ঘটনায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হচ্ছে।

সাধারণ বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘাতে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, অপরাধীদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। সংঘর্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর