কাদাপানিতে ডুবে সিন্দুরখান সড়ক, রোগী নিয়ে চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ PM

কাদাপানিতে ডুবে সিন্দুরখান সড়ক, রোগী নিয়ে চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮/০৯/২০২৬ ০২:৩৭:৪১ PM

কাদাপানিতে ডুবে সিন্দুরখান সড়ক, রোগী নিয়ে চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি


বর্ষা এলেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সিন্দুরখান সড়কে বেড়ে যায় দুর্ভোগ। বৃষ্টির পানিতে সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হওয়া ছোট-বড় গর্ত কাদাপানিতে ঢেকে যাওয়ায় চালকদের অনেকটা অনুমানের ওপর নির্ভর করে যানবাহন চালাতে হচ্ছে। গর্তে চাকা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাড়ি, কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনাও।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন জরুরি রোগী নিয়ে চলাচলকারীরা। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রয়োজন হলেও সড়কের খানাখন্দ ও কাদাপানির কারণে যানবাহনের গতি কমিয়ে দিতে হচ্ছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে অতিরিক্ত সময়ও লাগছে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে এই সড়ক রোগীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সিন্দুরখান সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে বেশ কয়েকটি জায়গায় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পানি ও কাদা জমে থাকায় কোথায় কতটা গভীর বা বড় গর্ত রয়েছে, তা বোঝার উপায় নেই। ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহনকেই ঝুঁকি নিয়ে এসব অংশ পার হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই সড়কের বিভিন্ন অংশের এমন অবস্থা। গর্ত তৈরি হলে কখনো মাটি, কখনো ইট কিংবা অন্য উপকরণ দিয়ে তা ভরাট করে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বৃষ্টি নামলেই সেই মেরামতের স্থায়িত্ব থাকে না।

সিন্দুরখান রোডের বাসিন্দা শাহাদাত খান বলেন, ‘বৃষ্টি এলেই আবার গর্ত আর কাদাপানি তৈরি হয়। সড়কটি পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করে স্থায়ী সমাধান করতে হবে।’

গাড়িচালক আফতাব মিয়ার অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বলেন, ‘গর্তে চাকা পড়ে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলছে। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। কোন জায়গায় কত বড় গর্ত, বোঝা যায় না। গাড়ি চালানো খুব ঝুঁকিপূর্ণ।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বর্ষার সময় গর্ত ভরাট করে সাময়িকভাবে সড়ক সচল রাখার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিত ও টেকসই সংস্কার করা দরকার। তা না হলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে মৌলভীবাজার জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন সড়কের রুটিন মেইনটেইন্যান্সের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর আওতায় সিন্দুরখান রোডের কাজ পান ঠিকাদার মো. মুহিবুর রহমান।

মো. মুহিবুর রহমান জানান, সিন্দুরখান সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশে রুটিন মেইনটেইন্যান্সের নির্ধারিত কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে।

তবে সড়কটির স্থায়ী সমাধানের জন্য আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাকিব। তিনি বলেন, সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের জন্য এ বছর একটি প্রকল্প প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে স্থায়ীভাবে সংস্কারকাজ শুরু হবে।

মৌলভীবাজার জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। সিন্দুরখান রোডের রুটিন মেইনটেইন্যান্সের বিষয়টি আমার জানা নেই। এসে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর