রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

অথৈ পানির দেশে এক কলসি সুপেয় জলের হাহাকার

বিশ্বম্ভপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/১০/২০২৬ ১০:১৩:১১ পূর্বাহ্ন

অথৈ পানির দেশে এক কলসি সুপেয় জলের হাহাকার


চারদিকে যতদূর চোখ যায়, শুধু পানি আর পানি। বর্ষায় অথৈ জলরাশি ঘিরে থাকে পুরো গ্রাম। অথচ সেই পানির মাঝেই এক ফোঁটা সুপেয় পানির জন্য হাহাকার করতে হয় মানুষকে। এক কলসি খাবার পানির খোঁজে প্রতিদিন পাড়ি দিতে হয় প্রায় এক কিলোমিটার পথ। এভাবেই প্রায় দুই দশক ধরে পানির কষ্ট বয়ে চলেছেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লোকমানপুর গ্রামের ৩০টি পরিবারের মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাতে কলসি নিয়ে গ্রামের নারী-পুরুষ ছুটছেন পাশের বাহাদুরপুর গ্রামের দিকে। বর্ষায় নৌকায় করে, আর হেমন্তে হাওরের কাদামাটি মাড়িয়ে পায়ে হেঁটে সংগ্রহ করতে হয় খাবার পানি। প্রতিদিনের এই পথচলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের।

গ্রামের বাসিন্দা লোকমান মিয়ার কাছে যেন এই পানির পথচলা জীবনেরই এক দীর্ঘ অভ্যাস। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক কলসি পানির জন্য এক কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছে। বছরের পর বছর একইভাবে চলছে জীবন। দ্রুত গ্রামে নলকূপ স্থাপন করে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা হাশেম মিয়ার কথায় ফুটে ওঠে সংকটের নির্মমতা। তিনি বলেন, ‘চারপাশে পানি থাকলেও খাওয়ার পানি নেই। সংশ্লিষ্ট অফিসকে অনেকবার জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি।’

গৃহবধূ কুলসুম বেগম বলেন, প্রতিদিন দূর থেকে পানি এনে সংসারের কাজ করতে হয়। এতে নারী ও শিশুদের চরম কষ্ট হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ চললেও সমস্যা সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেনি।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, এক-দুই বছর নয় প্রায় দুই দশক ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। সরকার আসে, সরকার যায়; বদলায় সময়, বদলায় মানুষের জীবনযাপন কিন্তু লোকমানপুরের মানুষের এক কলসি সুপেয় পানির অপেক্ষা যেন ফুরোয় না।

এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকিনা আক্তার বলেন, ওই এলাকায় প্রকৃতপক্ষে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে কি না, তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরেজমিনে যাচাই করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর