ফুল গাছ দিয়ে বারান্দা সাজানোর চল তো বহুদিনের। তবে এবার সেই চেনা সাজে একটু ভিন্নতা আনতে পারেন কাঁটাগাছ দিয়ে। বাড়ির অন্দরমহল কিংবা বারান্দার ছোট্ট জায়গাটিও রঙিন ফুলে সাজিয়ে তুলতে পারে ক্যাকটাস। ছোট টবেই দিব্যি বেড়ে ওঠে এই গাছ। সবচেয়ে বড় সুবিধা, ক্যাকটাসের পরিচর্যাতেও খুব বেশি ঝক্কি নেই।
বাড়িতে ছোট ক্যাকটাস ফলানো বেশ সহজ। এমন কিছু ক্যাকটাস আছে, যাতে নানা রঙের ফুল ধরে। তাই শুধু সবুজের সৌন্দর্য নয়, ফুলের রঙেও বাড়িয়ে তুলতে পারেন ঘরের সৌন্দর্য।
ক্যাকটাসের রকমফের
ক্যাকটাসের রয়েছে নানা ধরন। আকার, গঠন ও ফুলের রঙে একেকটির রয়েছে একেক বৈশিষ্ট্য। বাড়িতে লাগানোর জন্য বেছে নিতে পারেন কয়েক ধরনের ক্যাকটাস।
মামিলারিয়া
পাতার আকার গোলাকার। ছোট ছোট ফুল ফোটে এই ক্যাকটাসে। সাধারণত গাছের মাথার দিকে রিংয়ের মতো করে ফুল ফোটে।
রেবুইয়া
ছোট ও গোলাকার এই ক্যাকটাস ঝোপের মতো জন্মায়। এদের ফুল উজ্জ্বল রঙের এবং আকারেও বেশ বড়।
ওল্ড লেডি ক্যাকটাস
বালিতে এই ক্যাকটাস ভালো হয়। এর প্রায় ২৫০ প্রজাতি পাওয়া যায়। বসন্তে এই ক্যাকটাসে গোলাপি ও বেগুনি ফুল ফোটে।
হেনস অ্যান্ড চিকস
একসঙ্গে ঝোপের মতো জন্মায় এই ক্যাকটাস। ফুলগুলো বড় এবং অনেকটা পদ্ম ফুলের মতো দেখতে।
ব্যারেল ক্যাকটাস
গোলাকার আকৃতির কারণে এ ধরনের নাম হয়েছে। মে-জুন মাসের পর থেকে এতে লাল ও হলুদ ফুল ফোটে।
ক্যাকটাস লাগাবেন যেভাবে
ক্যাকটাস লাগানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে পাত্রের দিকে। এমন পাত্র বেছে নিতে হবে, যাতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো থাকে। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে ক্যাকটাসের শিকড় পচে যেতে পারে।
ক্যাকটাসের জন্য টেরাকোটার পাত্র ভালো। এ ধরনের পাত্রে মাটির পানি দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং বাতাস চলাচলও ঠিকমতো হয়।
মাটির জন্য সাকুলেন্ট মিক্স ব্যবহার করা ভালো। তবে নিজে মাটি তৈরি করতে চাইলে তাতে ৫০ শতাংশ কোকোপিট, ২৫ শতাংশ বালি এবং ২৫ শতাংশ ছোট নুড়ি বা পাথরের মিশ্রণ রাখতে হবে।
পাত্রের নিচে প্রথমে অল্প পরিমাণ ক্যাকটাস মিক্স দিতে হবে। এরপর গাছ বসিয়ে চারপাশে মাটি দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাকটাসের গোড়ার অংশ যেন মাটির নিচে চাপা না পড়ে যায়। গোড়ার অংশ মাটি থেকে সামান্য উপরে রাখতে হবে।
পানি ও আলো
ক্যাকটাস পোঁতার সঙ্গে সঙ্গে পানি দেওয়া যাবে না। ২-৩ দিন পর পানি দিতে হবে। এতে গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হবে। ক্যাকটাস প্রচুর আলো পছন্দ করে। তাই বাড়ির যে জায়গায় রোদ বেশি আসে, সেখানেই গাছ রাখা ভালো। বারান্দার রোদযুক্ত কোনো জায়গা হতে পারে এর জন্য আদর্শ স্থান।
সারের প্রয়োজন কম
ক্যাকটাসে খুব বেশি সারের প্রয়োজন হয় না। অল্প নাইট্রোজেনযুক্ত সার ব্যবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত সার প্রয়োগ না করাই ভালো।
পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে
ক্যাকটাসে সাধারণত খুব বেশি পোকামাকড়ের উপদ্রব হয় না। তবে কখনো কখনো মিলিবাগ বা স্পাইডার মাইটের আক্রমণ হতে পারে। এমন হলে নিম তেল স্প্রে করা যেতে পারে।
কম পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা ক্যাকটাস তাই ব্যস্ত জীবনে ঘর সাজানোর জন্য হতে পারে দারুণ এক পছন্দ। ছোট্ট একটি টবেই কাঁটাগাছের সবুজ সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলতে পারে রঙিন ফুলের ছোঁয়াও।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
লাইফস্টাইল ডেস্ক 








