আজ শুক্রবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেনা অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিনের

  • আপডেট টাইম : August 27, 2020 10:03 AM

ডেস্ক রিপোর্ট : চাকরির বয়সসীমা শেষ হওয়ার পরও পদ ছাড়ছেন না সিলেটের মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে গ্র্যাচুইটির টাকা আত্মসাৎ ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে বেতন ভাতা উত্তোলনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব নিয়ে কলেজের একজন শিক্ষক শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিলে তদন্ত কমিটি গঠন হয়। তবে তদন্ত কার্যক্রমে মো. গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তদন্ত রিপোর্ট আসেনি বলে জানা গেছে।

নগরীর বাগবাড়ি এলাকায় ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ। ২ বছর পর এই কলেজ এমপিওভুক্ত হয়। ২০০৯ সাথে এই কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন মো. গিয়াস উদ্দিন। নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি কলেজে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত অধ্যক্ষ থাকা যায়।

কলেজের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে চাকুরীর বয়স পার করেছেন মো. গিয়াস উদ্দিন। এর পর অধ্যক্ষ পদে থাকার জন্য কলেজের গভর্নিংবডির কাছে আবেদন করেন তিনি। কলেজ গভর্নিংবডির সিদ্ধান্ত ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে আরও ২ বছর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই বর্ধিত সময়ের মেয়াদও শেষ হয়েছে চলতি বছরের মার্চ মাসে।

এরপর ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি আবার অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য আবেদন করলে তা বাতিল করে দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে চলতি বছর মার্চ মাসে গভর্নিং বডির মিটিং করেন অধ্যক্ষ। সেই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। সেখানে তিনি আবার সাধারণ শিক্ষক হিসেবে কলেজে থাকার জন্য আবেদন করেন। সে মিটিংয়ে অনেকে তার এই আবেদনের বিরোধিতাও করেন। পরবর্তীতে গভর্নিং বডির ওই মিটিংয়ে তার আবেদন পাশ করানো হয় এবং সাধারণ শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে ১ বছরের জন্য দায়িত্ব বর্ধিত করা হয়।

শিক্ষকদের অভিযোগ, বয়স শেষ হওয়ার পরও তিনি এই পদে জোর করে বহাল আছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবত কলেজে কোনো অডিট হচ্ছে না। কলেজের অডিট হলে অনেক অসংগতি বেরিয়ে আসবে। এছাড়াও তিনি অধ্যক্ষ থাকাকালীন কোনো উপাধক্ষ্য নিয়োগ দেননি। এমনকি তার অবর্তমানে সাধারণ কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য কোনো সিনিয়র শিক্ষককেও দায়িত্ব দেননি। যার ফলে তিনি কলেজে না থাকলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে শিক্ষকদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজটির একাধিক সিনিয়র শিক্ষক বলেন, জোর জবরদস্তি করে তিনি কলেজের দায়িত্বে থাকতে চাচ্ছেন। তার কথামত যে শিক্ষকরা চলেন না তাদেরকে তিনি বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করান। তাই আমারা যারা সিনিয়র আছি তারা সব কিছু জেনেও নিজের সম্মান রক্ষার্থে এসব বিষয়ে কথা বলি না।

তারা আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় এমপি গর্ভনিংবডির দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলিত বছর ২৭ জুলাই এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এরপর নতুন গর্ভনিংবডির জন্য তিনি বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের কাছে যাননি। তাই জুলাই মাসের বেতন পাননি কলেজের শিক্ষকরা। কিন্তু আমরা অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি তারা তাদের বেতন তুলে নিয়েছেন।

মো. গিয়াস উদ্দিনের এসব নিয়ম বহির্ভূত কাজের জন্য এই কলেজেরই একজন শিক্ষক শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন শিক্ষা কর্মকর্তা। শিক্ষা কর্মকর্তার অভিযোগ কোনো তথ্য না দিয়ে মো. গিয়াস উদ্দিন তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছেন।

সিলেটের সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বেগম বলেন, যিনি অভিযোগ করেছেন তার পক্ষ থেকে সব ধরনের কাগজপত্র আমরা পেয়েছি। তবে অধ্যক্ষের কিছু কাগজপত্র আমাদের দরকার সেটা মো. গিয়াস উদ্দিন দিচ্ছেন না। কেন দিচ্ছেন না জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তিনি কিছু দেবেন না।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি নিয়ম মেনেই দায়িত্বে আছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির পর জুলাই মাসের পর আর মিটিং হয়নি তাই বেতন নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে আমি শীঘ্রই বিভাগীয় কমিশনারের সাথে মিটিং এর ব্যবস্থা করবো।

শিক্ষা অফিসের তদন্তের ব্যাপারে মো. গিয়াস উদ্দিন তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতির কথা আমি বলেছিলাম কারণ তখন তিনি গর্ভনিংবডির চেয়ারম্যান ছিলেন। এখন যেহেতু তিনি নেই তাই তার অনুমতি লাগবে না। শিক্ষা অফিসের যে তথ্য প্রয়োজন আমি দিয়ে দিব।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ