যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরে ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলা
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:১১ PM

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরে ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০/০৬/২০২৬ ০৯:৪৮:৪৫ AM

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরে ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলা


দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এছাড়া কুয়েত ও জর্ডানের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পাল্টা পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বুধবার ভোরে বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে এবং নিকটতম নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যদিও হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই হামলা ছিল সীমিত পরিসরের এবং নির্দিষ্ট সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

আরাঘচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিরাপত্তা চায়, তবে তাদের এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। তার এই বক্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

তবে উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দাবি করেছেন, মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে ইরান কোনো ইচ্ছাকৃত হামলা চালায়নি। তার এই বক্তব্য ঘটনাটিকে ঘিরে বিদ্যমান বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মঙ্গলবার অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নতুন সামরিক অভিযানের আগে কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী ১৬ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে গাজা ত্যাগ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ায় বহু রোগীর মৃত্যু ঘটছে বলে দাবি করেছে তারা।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং মানবিক সংকটের কারণে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর