আজ মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

সিলেটে আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচে চরম অব্যবস্থাপনা !

  • আপডেট টাইম : নভেম্বর ৫, ২০১৮ ৬:৪২ অপরাহ্ণ

দেবব্রত রায় দিপন (অতিথি প্রতিবেদক) : একের পর এক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়সারা দায়িত্বপালন নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচের অভিষেক অনুষ্ঠানের আগেও একই কর্তাব্যাক্তিদের দায়িত্ব পালনকালীন আরো অঘটনের জন্ম হয়েছে। কিন্তু সিলেটে এই প্রথম টেস্ট ম্যাচের অভিষেক অনুষ্ঠানে আবারো নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার অভাব থাকায় হতাশ হয়েছেন সিলেটের ক্রিড়ানুরাগীরা। এ অবস্থায় আগামীতে সিলেটের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠান নিয়ে আশংঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

তাদের মতে, এই মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালে সারাদেশ শুধু নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীকেটপ্রেমীরা স্যাটেলাইট মাধ্যমে খেলা উপভোগ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। এ অবস্থায় মাঠের অব্যবস্থাপনায় মূলত বহির্বিশ্বে দেশের সুনামের পাশাপাশি সিলেটের মান-সম্মানের হানি ঘটে। খেলোয়ারও হন বিব্রত। এ অবস্থায় ক্রিকোট স্টেডিয়ামের গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের মধ্যে টেস্টম্যাচ শুরু হয় ৩ নভেম্বর। খেলা শুরু প্রথম দিনই মাঠে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই ২য় এবং ৩য় দিনও একইভাবে পূণরাবৃত্তি ঘটে অঘটনের।

ম্যাচের ১ম দিন শনিবার ৪৮তম ওভার তখন মাত্র শেষ হয়েছে। নাজমুল ইসলাম অপুর করা ঐ ওভারে সাজঘরে ফিরেছেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যান সিকান্দার রাজা। তাই হাসি হাসি মুখ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। ওভার শেষ হওয়ায় ফিল্ডাররা প্রান্ত বদল করছিলেন। পরের ওভারের প্রস্তুতিতে মিডিয়া প্রান্তে এসে দাঁড়ানো মুশফিক মাঠ সাজাতে সহায়তা করছেন। এমন সময় স্টেডিয়ামের পূর্ব গ্যালারির মজবুত গ্রিল টপকে এক ছোট্ট কিশোর এক দৌড়ে চলে যায় সোজা মুশফিকের কাছে। ঘটনার আকস্মিকতা বুঝতে সময় লাগছিল মুশফিকেরও। তখন নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্তারা ঐ কিশোরকে সীমানার বাইরে ছেড়ে দিয়ে আসে।

২য় দিন রোববার একই ঘটনার পূণরাবৃত্তি ঘটে আবারো। তবে ঐদিন কিশোরের পরিবর্তে মাঠে ঢুকে পড়ে একটি কুকুর। ঘড়ির কাটায় সময় তখন দুপুর ১টা ১৫ মিনিট। দুই পক্ষের খেলোয়াড়েরা ঠাঁয় দাড়িয়ে আছেন। আম্পায়াররাও নির্বিকার। খেলা বন্ধ করে সবার দৃষ্টি একদিকে। এমন সময় ক্যামেরার চোখ খুঁজে পেলো এমন পরিস্থিতির কারণ। মাঠে ঢুকে পড়েছে একটি কুকুর। এমন সময় ফিল্ডিং করা জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড় কুকুরটিকে তাড়া করে বাউন্ডারির বাইরে বের করে দেন। আবারো শুরু হয় খেলা।

৩য় দিন সোমবার । আবারো একই ঘটনা ঘটলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। মাঠের নিরাপত্তা রেখা ভেদ করে মাঠে ঢুকে পড়েন এক দর্শক। কল্লোল দেবনাথ নামের ওই দর্শক লোহার প্রাচীর ডিঙিয়ে মাঠের সীমানায় প্রবেশ করে দৌড়ে গিয়ে মুশফিকুর রহিমকে জড়িয়ে ধরে।

তাইজুলের দশম উইকেট লাভের পর বেলা ১ টা ২৭ মিনিটের দিকে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আটক যুবক কল্লোল দেবনাথ ২১ শাহ পরান এলাকার বিএস দেবনাথের ছেলে ও সিলেট ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দশম শ্রেনীর ছাত্র।

প্রতিদিনের এমন ঘটনায় খেলায় ব্যাঘাত ঘটনোর বিষয়টি এখন আলোচনায় এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্তাব্যাক্তিদের দায়িত্ব নিয়ে।

স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ইনচার্জ নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) জাবেদুর রহমান বলেন, স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট দূরত্বে পুলিশ কর্তব্যরত ছিল। কিন্তু পুলিশের কর্তব্যস্থলের দূরত্বের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে তরুণটি প্রবেশ করেন।

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকবে আন্তর্জাতিক মানের। কিন্তু টেস্টম্যাচ চলাকালীন যে ঘটনাগুলো ঘটলো, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের আরো বেশি সচেতন থাকা উচিত ছিলো।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মিডিয়া ম্যানাজার ফেরদৌস কোরেসী জানান, “বিষয়টি আমার নয়”। তিনি নিরাপত্তা বিভাগে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান কর্মকর্তার নাম্বার জানতে চাইলে, তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

দূর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ( বিসিবি) এর পরিচালক ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, অঘটন তো অঘটনই। তাছাড়া, এটি কোনো কারাগার নয়। বিশ্বকাপ খেলায়ও একই রকম ঘটনা ঘটে থাকে।

কিন্তু বিরতিহীনভাবে একই ঘটনার পূণরাবৃত্তির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলে, দেখেন, আমাদের সবারই কিছু দায় থাকে। এ ব্যাপারে সকলেরই সচেতন থাকা উচিত। নিরাপত্তা কর্মীরাতো তাদের দায়িত্ব পালন করছেই।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ