আজ সোমবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

  • আপডেট টাইম : June 15, 2019 12:04 PM

জেলা প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার : ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মনু নদী এবং কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসী বাঁধরক্ষার চেষ্টা করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর ধলাই নদীর পানি কমে বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে ধলাই নদীর পারি বিপদসীমার ১৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।’

রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘বন্যা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত। এছাড়া জনসাধারণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর বাঁধের পুরনো ভাঙন দিয়ে পানি বেরিয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ ৫-৭ টি গ্রামের কিছু এলাকায় প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালের দিকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘোড়ামারা গ্রাম এলাকায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের পুরাতন একটি ভাঙন দিয়ে পানি বের হয়ে প্লাবিত হওয়ায় ঘোড়ামারা ও নাজাতকোনা গ্রামের ২০/৩০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

কমলগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ঘোড়ামারা গ্রামের হোসেন আলী জানান, ধলাই নদীর ভাঙনে এই গ্রামের ১৫ পরিবার নিঃস্ব হওয়ার পথে। নদীর বাঁধ মেরামত না হওয়ায় স্রোতের পানি থাকায় বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। থাকার মতো স্থায়ী জায়গা নেই।

কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দীন বলেন,‘পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বছর কাজে আসলেও কিছু মানুষের আপত্তির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি।’

কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, ‘সরেজমিনে ঘুরে দেখছি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে নিদের্শ দিয়েছি।’

জানতে চাইলে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘২০১৭ সালে বাঁধ মেরামতের জন্য যে প্রকল্প নেওয়া হয় সেখানে স্থানীয়দের আপত্তির কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারেনি। পরে বাধ্য হয়ে ঠিকাদার চলে আসেন। বর্তমানেও যদি জন প্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের সহযোগিতা পাওয়া যায় এবং ঘরগুলো সরানো হয় তাহলে কাজ করা সম্ভব।’

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ