আজ বুধবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

যেভাবে জাতীয় দলে স্থান পায় সাকিব

  • আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

উপজেলা প্রতিনিধি, বালাগঞ্জ

সিলেট : প্রত্যেক মা-বাবাই চান তার সন্তান বড় হয়ে উচ্চ শিক্ষিত হোক। ভালো একটা চাকুরী করে মা-বাবার মুখ উজ্জল করুক। আমিও তেমনটা চেয়েছিলাম। আমি চাইতাম না সাকিব খেলাধুলা করুক। ওর খেলাধুলার সরঞ্জামাদি পর্যন্ত আমি কেটে ফেলতাম। আলাপকালে এমনটাই বলছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুর্ধ্ব-১৭ দলের খেলোয়াড় সাকিবের মা।

এ প্রতিবেদক যখন সাকিবের মা-বাবার সাক্ষাৎকার নিতে সাকিবদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন ঠিক তখনই শ্রীলংকায় অনুর্ধ্ব-১৭ ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ দলের হারের খবর এলো। সাকিবও এ দলে ছিলেন। কিন্তু তাতে একটুও বিষন্নতা দেখা গেল না সাকিবের পরিবারের সদস্যদের মাঝে। বরং তারা সাকিবের গৌরবে উচ্ছ্বসিত।

সরেজমিন সাকিবের বাড়িতে গেলে তার মা হাসিমাখা মুখে সোকেসের ভিতরে বিভিন্ন সময়ে সাকিবের পাওয়া পুরষ্কারগুলো এক পলকে দেখালেন।

২০০২ সালের ২০ অক্টোবর বাবা ফার্মাসিষ্ট গৌছ আলী ও মা সেলিনা পারভীন দম্পতির ঘর আলোকিত করে বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ ইউনিয়নের তিলকচাঁনপুর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন তানজিম হাসান সাকিব। ৪ ভাই বোনের মধ্যে সাকিব ৩য়। মা-বাবার একমাত্র ছেলে হিসেবে সাকিবের প্রতি ভালোবাসার অন্ত নেই তাদের। বোনদেরও নয়নের মণি সাকিব।

সাকিব উপজেলার আদিত্যপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি নিয়ে বালাগঞ্জ সরকারী ডি.এন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। সেখানে সে ৮ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বি.কে.এস.পি) থেকে ডাক এলে সেখানে তৃনমূল বাছাইয়ে অংশ নেয়। অনন্য সাধারণ বোলিং নৈপুণ্যতার ধরুন সাকিব বি.কে.এস.পি তে ভর্তির সুযোগ পায়। বর্তমানে সে বি.কে.এস.পি স্কুলে অনুশীলনের পাশাপাশি ইন্টার ১ম বর্ষে অধ্যয়ন করছে।

সাকিবের উঠে আসার গল্প
আজ থেকে ৪ বছর আগে বিশ্বস্থ এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সাকিব জানতে পারেন অনুর্ধ্ব-১৩ জাতীয় দল গঠনের নিমিত্তে মৌলভীবাজার জেলা ষ্টেডিয়ামে একটি বাছাই পর্ব চলছে। মাত্র এক দিন সময় হাতে রেখে বাছাই পর্বে অংশগ্রহণ করার জন্য সাকিব ছুটে যান মৌলভীবাজার জেলা ষ্টেডিয়ামে।

সেখানে সাকিবের বোলিং নৈপুণ্যতা দেখে ভালো লেগে যায় নির্বাচকদের। মৌলভীবাজার থেকে ছুটে চলা চট্রগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ষ্টেডিয়ামে। ৩ মাসের বোলিং কোর্স সম্পন্ন করে সাকিব প্রস্তুতি নেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বি.কে.এস.পি) ভর্তির। শেষ পর্যন্ত ভর্তিও হন বি.কে.এস.পি তে।

বি.কে.এস.পি তে থাকা অবস্থায় সাকিব বাংলাদেশ জাতীয় অনুর্ধ্ব-১৭ ক্রিকেট দলের হয়ে ২০১৬ সালে ভারত এবং অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকায় ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যান। এছাড়া সাকিব একাধিক ঘরোয়া ম্যাচেও ক্রিকেটাঙ্গন মাতিয়েছেন।

সাকিবের বাবা গৌছ আলীর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, জুনিয়র টাইগারদের গর্জনে গোটা বিশ্বের ক্রিকটোঙ্গন যেনো প্রকম্পিত হয়ে উঠে। সাকিবের মায়ের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, দোয়া করি সাকিব যেখানেই যাক বাংলাদেশের মান-সম্মান ও কৃতিত্ব যেনো বজায় রাখে।

সাকিবের চাচাতো ভাই ও বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মুনিম বলেন, সে যেভাবে ক্রিকেট খেলে তাতে আমরা আশাবাদী এ খেলার প্রতি সে আরো পারদর্শী হয়ে উঠবে। তাকে নিয়ে আমাদের পরিবারের সকলের অনেক আশা-ভরসা আছে।

সাকিবের বাল্যবন্ধু নাসিম আহমাদ সোহাগ জানান, ক্রিকেটের প্রতি সাকিবের এতোটাই আশক্তি ছিল যে, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেনিতে পড়ার সময় কোথাও কোনো ম্যাচের খবর পেলে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে খেলতে যেতো।

সাকিবের মা-বাবা এবং বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মুনিম বালাগঞ্জ সহ দেশ বাসীর কাছে সাকিবের জন্য দোয়া চেয়েছেন। শ্রীলংকা সফর শেষে নিজ গ্রামে ছুটি কাটাতে আসলে কথা হয় সাকিবের সাথে। জালালাবাদকে সাকিব জানায়, তার বেঁড়ে উঠার গল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ...