আজ সোমবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসি

  • আপডেট টাইম : August 2, 2017 5:50 AM

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) মনোনীত শহীদ খাকান আব্বাসিকে দেশটির ১৮তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে জাতীয় পরিষদ। খবর জিও নিউজের।

মঙ্গলবার বিকালে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য দেশটির জাতীয় পরিষদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শহীদ খাকান আব্বাসি ৩৩৯ ভোটের মধ্যে ২২১ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। শহীদ খাকান নওয়াজ শরিফের মন্ত্রীসভার জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষিত হন এবং পরে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

নওয়াজের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আব্বাসি দায়িত্ব পালন করবেন।

পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ নাভিদ কামার পেয়েছেন ৪৭ ভোট এবং আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রধান শেখ রশিদ পেয়েছেন ৩৩ ভোট।

ভোটাভুটির সময় গোলযোগ করায় নির্দিষ্ট কয়েকজন জাতীয় পরিষদের সদস্যকে বাদ দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার।

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে গত শুক্রবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করেন। এরপরই তিনি পদত্যাগ করেন। এক দিন পর তিনি ছোট ভাই ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে তার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেন। আর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন দলের বিশ্বস্ত ও সাবেক পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসিকে। কিন্তু তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য না হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে হয়েছে। ৩৪২ আসনের জাতীয় পরিষদে নওয়াজের দল পিএমএল-এনের আসন রয়েছে ২০৯টি। তাই তাদের প্রার্থী শহীদ খাকান আব্বাসি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন—এটা প্রায় নিশ্চিত ছিল। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় পরিষদে ১৭২ ভোট পেলেই একজন প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

পাকিস্তানের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শহীদ খাকান আব্বাসিকে বেছে নেয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি সংক্রান্ত একটি চুক্তি নিয়ে ২২ হাজার কোটি রুপি দুর্নীতির অভিযোগে আব্বাসি ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যমের খবরে।

এনএবি’র নথি বলছে, ওই চুক্তিটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেটরি অথরিটির (পিপিআরএ) বিধি ও এ সংক্রান্ত আইনের এর লঙ্ঘন ছিল।

ডন পত্রিকা জানিয়েছে, পাকিস্তানের সাবেক পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী খাকান আব্বাসির বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করে এনএবি। আব্বাসিই এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত।

মামলার অন্য সন্দেহভাজনদের মধ্যে সাবেক পেট্রোলিয়াম সচিব আবিদ সায়িদ, ইন্টার স্টেট গ্যাস সিস্টেমসের (আইএসজিএস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোবিন সউলুত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এনগ্রো’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক ও সুই সাউদার্ন গ্যাস কোম্পানির (এসএসজিসি) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুহাইর আহমেদ সিদ্দিকি রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই এনএবি আব্বাসির বিরুদ্ধে মামলা করলেও এটি এখনও তদন্তের পর্যায়ে আছে।যদিও এনএবি চেয়ারম্যানের দাবি, তার নেয়া নতুন কৌশলের আওতায় অভিযোগ যাচাই, তদন্ত এবং রেফারেন্স ফাইলের মতো বিষয়গুলো তৈরির প্রক্রিয়া ১০ মাসের মধ্যে শেষ করা হয়।

আব্বাসিসহ দুর্নীতি মামলার অন্য সব অভিযুক্তকেই পাকিস্তান ত্যাগে নিষেধাজ্ঞার (এক্সিট কন্ট্রোল লিস্ট- ‘ইসিএল’) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশও রয়েছে বলে জানা গেছে এনএবি নথি থেকে।

তবে আব্বাসি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনও পদক্ষেপকেই তিনি ভয় পান না। যারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তকমা লাগাচ্ছে তাদের নিজেদেরই আত্মনুসন্ধান করা উচিত এবং কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত।

 

(আজকের সিলেট/২ আগষ্ট/ডি/এসসি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ