আজ বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

চেয়ার টেকাতে মরিয়া অধ্যক্ষ, বেতন পাচ্ছেন না কেউ

  • আপডেট টাইম : September 12, 2020 11:29 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিনের। চাকরির বয়সসীমা শেষ হওয়ার পরও এক অদৃশ্য মায়ায় চেয়ারটি ছাড়তে চাচ্ছেন না তিনি। এই চেয়ার ঠেকাতে এতটাই ব্যস্ত সময় পার করছেন যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পর্যন্তু পাচ্ছেন না। এতে করে অনেকটা মানবেতর জীবন পার করছেন তারা। তবে অধ্যক্ষের দাবী তিনি ছুটিতে থাকায় বেতন হয়নি, অন্যকোন কারন নেই।

কলেজের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরা জানান, অধ্যক্ষের দায়িত্বপালনে অবহেলার কারনে আমরা দুই মাস থেকে বেতন ভাতা পাচ্ছিনা। আমরা বিষয়টি নিয়ে বার বার যোগাযোগ করলেও অধ্যক্ষ বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করছেন। তিনি শুধু নিজের চেয়ার আকড়ে ধরার জন্য তদবিরেই ব্যস্ত রয়েছেন। আমাদের কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু কলেজের কর্মচারীদের কথা একবার চিন্তা করুন। তারা কিভাবে দিন পার করছে?

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে চাকুরীর বয়স পার করলেও অদৃশ্য এক মায়ায় অধ্যক্ষের চেয়ারটি আকড়ে ধরে আছেন মো. গিয়াস উদ্দিন। এই চেয়ারটি টিকিয়ে রাখতেই তিনি এখন দৌড়ঝাপ করছেন বিভিন্ন দপ্তরে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় এমপি গর্ভনিংবডির দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলিত বছর ২৭ জুলাই এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এরপর নতুন গর্ভনিংবডির জন্য তিনি বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের কাছে যাননি। আর এতে করেই আটকা পড়েছে কলেজটির শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা।

এমতাবস্থায় অধ্যক্ষের চাকুরির মেয়াদোত্তীর্ণের বিষয়টি যদি শিক্ষামন্ত্রণালয় বা আদালত পর্যন্ত গড়ায় তবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত কলেজটির এমপিও স্থগিত হয়ে যেতে পারে। আর এমনটি হলে কলেজ সংশ্লিষ্টরা পড়বেন চরম বিপাকে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজের আকড়ে রাখা পদটি ছেড়ে দিতে গিয়াস উদ্দিনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজটির এক শিক্ষক বলেন, আমরা না হয় এখন পেটের দায়ে চিৎকার করছি। কিন্তু নিজেদের ইমেজ নিয়ে মনে হয় আর চাকুরী করা সম্ভব হবেনা। আমাদের অধ্যক্ষ বয়স শেষ হওয়ার পরও তার পদ আকড়ে আছেন, এটি বৈধ নয়। এমন অবৈধ কাজের কাজির সাথে কাজ করা নিজেদের ইজ্জতের সাথে মানানসই নয়।

কলেজটির অপর এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধ্যক্ষের এই অপকর্মের কারনে আইন অনুযায়ী কলেজের এমপিও স্থগিত হয়ে যেতে পারে। যদি এমনটি ঘটে তবে সবার ভাগ্যেই দুঃখ আছে।

কলেজটির পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক নাসিম সুলতানা বলেন, আমাদের গভর্নিং বডির সভাপতি পরিবর্তন হওয়ার পর গত দুই মাস থেকে বেতন বন্ধ আছে।

কলেজটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এনামুল হক চৌধুরী বেতন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কি কারনে বন্ধ রয়েছে তা গণমাধ্যমে বলতে চাননি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম এজন্য বেতন হয়নি। হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

 

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ