আজ শুক্রবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

সিলেট থেকে পান রফতানি বন্ধ

  • আপডেট টাইম : September 8, 2017 6:01 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী পানের মধ্যে স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়েছিলো। এরপর থেকে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সিলেট থেকে পান রফতানি বন্ধ হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রপ্তানি উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা স্যালমোনিয়া মুক্ত পান উৎপাদনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত সফলতা মিলেনি। ব্যাকটেরিয়ামুক্ত হয়নি পান। ফলে পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরেই বন্ধ আছে রফতানি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রফতানিকারকরা।

রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, বন্ধ হওয়ার আগে সিলেট থেকে বছরে তিন থেকে চারশ’ কোটি টাকার পান ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে রফতানি হতো।

কৃষিবিদদের মতে, স্যালমোনেলা হচ্ছে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা পান পাতার সথে লেগে থাকে কিন্তু খালি চোখে দেখা যায় না। এই ব্যাকটেরিয়া পেটে গেলে পেটের অসুখসহ পাকস্তলিতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পরে। বাগান পরিচ্ছন্ন রাখলে ও রোগবালাই হলে সাথে সাথে প্রতিষেধক ব্যবহার করলে বাগান স্যালমোনেলা মুক্ত রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তারা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র উপ পরিচালক (পণ্য) আলতাফ হোসেন ভূইয়া বলেন, আমরা পান রফতানি আবার শুরু করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু রফতানিকারক দেশগুলো থেকে এখনো অনুমতি পাওয়া যায়নি। স্যালমোনিয়া ব্যাকটেরিয়ামুক্ত পান চাষের ব্যাপারেও রফতানিকারক ও চাষীদের আমরা উদ্ভুদ্ধ করছি।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, পান উৎপাদনের জন্য খ্যাতি রয়েছে সিলেটের। সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গল, বড়লেখা, কমলগঞ্জ, চুনারুঘাটসহ কয়েকটি উপজেলায় সর্বাধিক পান চাষ হয়। সিলেট বিভাগে ছোট বড় পাঁচ শতাধিক পান বাগান রয়েছে। সিলেটের খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনই মূলত পান চাষ করে থাকে। তাই এখানকার উৎপাদিত পান ‘খাসিয়া পান’ হিসেবেই পরিচিত। এই খাসিয়া পানই যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়।

সিলেটের পান রফতানিকরকরা জানান, সিলেটের পানের ক্রেতারা মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাঙালিরা। এছাড়া ইদানীং মধ্যপ্রচ্য এবং পাকিস্তানেও খাসিয়া পানের বাজার সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্যালমোনেলা ব্যাকটিরয়ার আক্রমনের কারনে বন্ধ রয়েছে পান রফতানি।

দীর্ঘদিন রফতানি বন্ধ থাকলে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় একটি বাজার হারিয়ে ফেলবে উল্লেখ করে রফতানিকারকরা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যেগে বাগান চাষীদের স্যালমোনেলামুক্ত বাগান তৈরির প্রশিক্ষন দেওয়ার আহ্বান জানন।

এদিকে, রফতানি বন্ধ হয়ে পড়ায় দেশী বাজারেই এখন পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষীরা। এতে নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে জাফলংয়ের সংগ্রাম পুঞ্জির পান চাষি স্বপন লাম্বা বলেন, আমাদের বাগানে উন্নতজাতের পান উৎপাদন হওয়ায় এখানকার বেশিরভাগ পানই রফতানিকারকরা কিনে নিয়ে যান। কিন্তু দুই বছর ধরে রফতানি বন্ধ থাকায় দেশীয় পাইকারদের কাছেই পান বিক্রি তকরতে হচ্ছে। ফলে পানের নায্যমূল্য পাচ্ছি না আমরা।

এ ব্যাপারে জালালাবাদ ভেজিটেবল, ফ্রুটস এন্ড ফিশ এক্সপোর্টার গ্রুপের সভাপতি হিলকিল গুলজার বলেন, সিলেট থেকে প্রতিবছরে প্রায় তিন থেকে চারশ’ কোটি টাকার খাসিয়া পান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমন জনিতকারনে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে পান রফতানি।

হিলকিল বলেন, বছর পাঁচেক আগে যুক্তরাজ্যে পান খেয়ে এক নারী হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পানের মধ্যে স্যালমোনেলা নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান চিকিৎসকরা। এরপর থেকেই পান আমদানী বন্ধ করে দেয় যক্তরাজ্য।

তিনি বলেন, এখানকার আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায় মূলত উত্তরাধিকারী সূত্রেই পান চাষী। তাদের বাগানগুলো অনেক পুরনো হয়ে পড়েছে এবং অপিরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। আবার চাষীদের প্রশিক্ষনের অভাব থাকায় তারা বাগানকে রোগ বালাই এবং ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ামুক্ত রাখার কৌশল সম্পর্কেও অবগত নয়। তাই পান চাষীদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ পরিচালক মো. আবুল হাশেম বলেন, পান বাগান স্যালমোনিয়া মুক্ত রাখতে চাষীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো বাগানগুলো এখনো পুরোপুরি এই ব্যাকটেরিয়ামুক্ত করা যায়নি।

তিনি বলেন, স্যালমোনেলা হচেছ এমন একধরনের ব্যাকটেরিয়া যা খালি চোখে দেখা যায় না কিন্তু পানের গায়ে লেগে থাকে। বাগান পরিচ্ছন্ন রাখা, পান গাছে রোগবালাই হলে দ্রুত প্রতিষেধ ব্যবহার, পোকামাকড়ের আক্রমন থেকে বাগান মুক্ত রাখা গেলে স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার বিস্তারও রোধ করা যাবে। এ ছাড়া রফতানির আগেও যথাযথ প্রক্রিয়ায় পান পরিষ্কার করে নিতে হবে। তা হলে পান এই ব্যাকটেরিয়া মুক্ত রাখা যাবে।

 

(আজকের সিলেট/৮সেপ্টেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ