আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২০ ইং

নভেম্বরেই ট্রাম্পকে তাড়াবেন টেলর!

  • আপডেট টাইম : June 1, 2020 12:06 AM

ডেস্ক রিপোর্ট : মরণঘাতি করোনার দাপটের মধ্যেই আমেরিকায় জ্বলছে বিদ্বেষের আগুন। সেই আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই! তিনি ট্যুইটারে বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দেন, ‘লুট শুরু হলে, শুট (গুলি) শুরু হবে।’ ট্রাম্পের এই ট্যুইটের প্রেক্ষিতে এবার পাল্টা ট্যুইট করলেন বিখ্যাত মার্কিন গায়িকা টেলর স্যুইফ্ট। যেটা এখন মেগাহিট।

ট্রাম্পকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি লেখেছেন, ‘আপনি প্রেসিডেন্ট হয়েও সাদা চামড়ার আধিপত্যবাদ ও বর্ণবাদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এর পরও কীভাবে আপনি সংহতির হুমকি দিতে পারেন। এটাই কি আপনার নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব? কীভাবে আপনি গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন! ভোট দিয়ে নভেম্বরেই আপনাকে ক্ষমতাচ্যুত করব।’

এর আগে ট্রাম্পের ট্যুইটের পর মিনেসোটার থানায় আগুন লাগান বিক্ষোভকারীরা। প্রাণ বাঁচাতে পালান পুলিশ সদস্যরা। এরপর দেদার চলে ভাঙচুর, লুঠপাট। ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, মেমফিস, টেনেসিতেও। সেখানেও পথে নেমেছেন শত শত কৃষ্ণাঙ্গ।

এদিকে ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত ট্যুইটটি লুকিয়ে ফেলেঠে ট্যুইটার কর্তৃপক্ষ। তার জায়গায় লিখে দেয়া হয়েছে, ‘হিংসায় প্ররোচনা দেয়ার বিধি লঙ্ঘন করেছে এই ট্যুইট।’ এমনকী, প্রেসিডেন্টের ট্যুইট গেল শুক্রবার সকালে নতুন করে পোস্ট করা হয়েছিল হোয়াইট হাউসের ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে। সেখানেও একই বার্তা সেঁটেছে ট্যুইটার।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই বিতর্কিত ট্যুইটটি যাতে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও নিয়েছে ট্যুইটার কর্তৃপক্ষ। কোনও দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষেত্রে সম্ভাবত এমন নজির নেই। গোটা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘২০২০ সালে বর্ণবিদ্বেষ আমেরিকায় স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।’

এদিকে, বিক্ষোভের খবর সংগ্রহে গেলে গ্রেপ্তার করা হয় সিএনএন-এর এক কৃষ্ণাঙ্গ সাংবাদিককে। তাতে মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। প্রশাসনের এমন আচরণে ট্রাম্পের ডেমোক্র্যাট প্রতিপক্ষ জো বাইডেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারের হাঁটুর চাপে প্রাণ গেল কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির, তিনি বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ কাজ করতে গিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ সাংবাদিক গ্রেপ্তার হলেন!

গত সোমবার মিনেয়াপোলিসে পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় মারা যান ৪৬ বছর বয়সী আফ্রিকান আমেরিকান নাগরিক ফ্লয়েড। ৪৪ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চউভিনকে তার মৃত্যুর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং আজ সোমবার তাকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আরো তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ