আজ রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী

  • আপডেট টাইম : March 22, 2018 6:00 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক : মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সিলেট নগরবাসী। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে এর উৎপাত। বাদ যাচ্ছেনা বস্তি এলাকা থেকে অভিজাত এলাকাও। এতে শান্তিতে পড়া লেখাও করতে পারছে না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা না হতেই ঝাঁক বেধে মশা ঘরে প্রবেশ করে সারারাত চালায় অত্যাচার। ফলে মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নাগরিকরা।

জানা গেছে, গরম মৌসুমের শুরু সাথে বাড়তে শুরু করেছে মশাও। মশার উৎপাত থেকে রক্ষা পাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে কয়েল জ্বালালে কিছুটা রেহাই পাওয়া গেলেও এখন কাজ হয় না।

তবে মশক নিধনের সাথে সংশ্লিষ্ঠরা বলেছেন, পরিবেশের বিভিন্ন পোকা-মাকড়, কেঁচো, মৌমাছি, প্রজাপতিসহ অন্যান্য কিট-পতঙ্গের কোন ক্ষতি না হয় সেই বিষয় মাথায় রেখে এবার ফগার মেশিন এবং ধ্বংসাত্বক কোন বিষ প্রয়োগ করা হয় নাই। শুধু মাত্র লার্ভা মারার ঔষুধ ব্যবহারের ফলে মশার বংশ বৃদ্ধি কমেছে এবং ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে বলে দাবী করেছেন তারা।

নগরবাসী মনে করছেন,যথাযথ ভাবে বিষ প্রয়োগ না করায় মশা কমার পরিবর্তে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছি। এছাড়া মশার বংশ বৃদ্ধির স্থান নালা, নর্দমা, ডোবা পরিস্কার করে ঔষধ প্রয়োগ না করায় এসব স্থান মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এসব স্থান পরিষ্কার করে তাতে ঔষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যেতো বলে মনে করেন তারা।

নগরীর মিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র ফাহিম আহমেদ বলেন, মশার তীব্রতা এতই বেড়েছে যে তাদের ভয়ে সন্ধ্যার আগেই দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। এরপরও মশার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়না। মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ শিবগঞ্জ লাকড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জ্যোতি জানান, মশা হঠাৎ এত বেড়ে গেছে যে রাতে নয় এখন দিনেরবেলাও কামড়াচ্ছে। মশার অত্যাচারে পড়া-লেখায় মারাত্বক ব্যাঘাত ঘটছে।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে খুব শিগিরই কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানায় সে। এদিকে ঔষধ প্রয়োগের পরেও মশার তীব্রতা বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সূধাময় মজুমদার বলেন, অত্যাধিক রাসায়নিক ও মশার কয়েল ব্যবহারের ফলে মশার প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য বিবেচনা করে মশক নিধনে ক্ষতিকারক রাসায়নিক বিষ ব্যবহার বন্ধ করে এবার নতুন প্রকারের লাভারসাইট নামক ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ঔষধ পরিবেশের অন্যান্য কিট-পতঙ্গের ক্ষতি না করেই শুধুমাত্র মশার লাভা (শুককিট) ধ্বংস করে। কিন্তু তারপরেও যেহেতু মশার উপদ্রব কমেনি, তাই এটি তদন্ত করে দেখা হবে।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করে বলেন, মশা নিধন ও বেওয়ারীশ কুকুর হত্যার যৌথ প্রকল্পটির জন্য যে অর্থ বরাদ্ধ করা হয়েছে তা যথেষ্ঠ নয়। তাই এ প্রকল্প সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ১ কোটি টাকা বরাদ্ধের জন্য সিসিক কর্তপক্ষের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করেন।

 

(আজকের সিলেট/২২ মার্চ/ডি/এমকে/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ