৩০ অক্টোবর ২০২২


এ দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

শেয়ার করুন

কর্তাব্যক্তিদের বার বার আশ্বাস দেয়া সত্বেও সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। বলা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা। এই পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়- বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সিলেটবাসী। শহর কিংবা গ্রামে লোডশেডিং হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা।

বিদ্যুৎ বিপর্যয় এক সময় ছিলো আমাদের জন্য একটি নিয়মিত ব্যাপার। সেই দুঃসহ সময় পার হয়ে বিদ্যুতে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে দেশ। মোটামুটি বছর কয়েক সাবলীল বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও অতি সম্প্রতি যেন আমরা চলে গিয়েছি সেই ‘অন্ধকার’ যুগে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, চাহিদার সাথে সরবরাহের ঘাটতি থাকায় শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ লোডশেডিং হচ্ছে। অথচ, আগে লোডশেডিং হতো মাত্র ২০ ভাগ। এছাড়া, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে গত জুলাই মাস থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সময়সূচি নির্ধারণ করে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তখন সিলেট অঞ্চলেও দিনে দুই-তিন ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। গত ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর সিলেটে প্রতিদিনই ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে-যতোই আশ্বাস দেয়া হোক সরকার থেকে, অচিরেই সংকট থেকে মুক্তির উপায় নেই। বিদ্যুতের উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গ্রিডে নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হতে এবছরও পেরিয়ে যেতে পারে। তবে যেহেতু সামনে শীত মওসুম; আর শীতে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। সে হিসেবে হয়তো সামনে সুসময় অপেক্ষা করছে। দেশে সাধারণ সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। যা শীত মৌসুমে নেমে দাঁড়ায় নয় হাজার মেগাওয়াটে। ফলে নতুন বিদ্যুৎ না পৌঁছালেও শীতে চাহিদা কম থাকার কারণেই পরিস্থিতি সহনীয় থাকবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।
কিন্তু এই সমাধান তো সাময়িক। শীত চলে গেলে পরিস্থিতি চলে যাবে পূর্বাবস্থায়। তাই দরকার স্থায়ি ব্যবস্থা। দেখা গেছে, যে সব বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নতুন বিদ্যুৎ পাওয়ায় আশা করা হচ্ছে তার কোনটিতে উৎপাদন শুরু হতে অনেক সময় লাগবে, কোনটিতে উৎপাদন হলেও সঞ্চালন লাইন না থাকায় জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে না বিদ্যুৎ। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এগুতে হবে সরকারকে।

শেয়ার করুন