আজ বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

হারিছ চৌধুরীর উপর ক্ষোভ থেকেই বিএনপিতে মোহাম্মদ চৌধুরী

  • আপডেট টাইম : June 4, 2018 2:27 PM

নিজস্ব প্রতিবেদক : অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বিগত ৪দলীয় জোট সরকারের সময়ে সিলেট ৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। শায়েখে ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী ওরফে মোহাম্মদ চৌধুরী এই ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জামাতা। আর নিজের ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই নিজের জামাতা ও দলটির এই রুকনকে বিএনপিতে কৌশলে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন সাবেক এই সাংসদ।

ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর বাড়ি ও তৎক্ষালিন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর বাড়ি সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলায়। দুজনের বাড়ি একই উপজেলায় হওয়ার দুজনের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয় প্রকটভাবে। ধীরে ধীরে দুজনের সম্পর্কের অবনতি হয়। আর এই সম্পর্কের অবনতির মধ্যে সিলেটে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সখ জাগে এই জামায়াত নেতার। জালালাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় নামে প্রস্তাবিত নামও ঠিক করা হয়। চলে ফাইল চলাচলি। ফাইল অনুমোদনের চুড়ান্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎক্ষালিন প্রভাবশালী কর্মকর্তা হারিছ চৌধুরী আটকে দেন ফাইলটি।

আর এতেই বিশ্ববিদ্যালয় করার স্বপ্ন সফল হয়নি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর। অবশেষে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে মনে আক্ষেপ নিয়ে সরকারের শেষ সময়ে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জালালাবাদ কলেজ।

আর সেই থেকেই ফরিদ চৌধুরীর ইচ্ছা জাগে তৎক্ষলিন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সনের কাছে হারিছ চৌধুরীর চেয়ে নিজের জামাতাকে বেশী প্রিয় করে তোলার। আর তখন থেকেই প্ল্যান মাফিক আগাতে থাকেন ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। বর্তমানে মেহাম্মদ চৌধুরীকে দলীয় চেয়ারপার্সনের কাছে অস্থাভাজন হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন ফরিদ চৌধুরী।

সিলেট জামায়াত সূত্রে জানা যায়, দলের রুকন (সদস্য) মোহাম্মদ চৌধুরীকে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার দলীয় কোন সিদ্ধান্ত ছিলনা। একজন কেন্দ্রীয় নেতা নিজের স্বার্থে তাঁর জামাতাকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় করেছেন। একজনের দুই দলের পদবী বহন করা জামায়াতের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী।

দলটির কর্মীদের মতে, দলের সাবেক এই এমপির ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই দলের নীতিকে বিষর্জন দিয়ে এই কাজটি করা হয়েছে। যা দল ও রাজনীতির জন্য মোটেও সুখকর নয়।

তবে জামায়াতের দ্বায়িত্বশীলরা এই বিষয়টি নিয়ে এখন আর কথা বলতে চান না।

সিলেট বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামায়াত থেকে বিএনপিতে অনুপ্রবেশকারীদের কারনেই দলের আজ এই করুন অবস্থা। গত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীর জনসমর্থন বেশী থাকার পরও জামায়াতের প্রার্থীকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। আর এসব হয়েছে অনুপ্রবেশকারী জামায়াত নেতাদের যোগসাজসে। মোহাম্মদ চৌধুরী সিন্ডিকেটরা দলের ভিতরে মুলত তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই কাজ করছেন।

তবে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা দলের পদপদবীদারী হওয়ার প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছিনা। এই সব অন্যদলের এজেন্টরাই আমাদের জন্য কাল হচ্ছে। এদের জন্য দলের ত্যাগী নেতারা আর বঞ্চিত ও অবহেলিত। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও দল ও জোটের মনোনয়নের ক্ষেত্রে এরা নিজ দলের প্রার্থীকে জোটের প্রার্থী করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপিকে এর পরিনতি ভোগ করতে হবে।

(আজকের সিলেট/১৫ মার্চ/ডি/এসটি/ঘ.)

এসংক্রান্ত আরো খবর…..

গোপন মিশন নিয়ে বিএনপিতে মোহাম্মদ চৌধুরী

মোহাম্মদ চৌধুরী তুমি কার?

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ