আজ শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

সিলেটে জায়গা-জমি নিয়েই প্রবাসীরা বেশি হয়রানির শিকার হন

  • আপডেট টাইম : May 5, 2018 6:01 AM

কাউসার চৌধুরী (অতিথি প্রতিবেদক) : সিলেট অঞ্চলে জায়গা-জমি নিয়েই প্রবাসীরা বেশি হয়রানির শিকার হন। পারিবারিক বিরোধ ও জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও অনেক প্রবাসীকে পুলিশের দ্বারস্থ হতে হয়। আবার কেউ কেউ অপহরণের হুমকি পেয়ে ছুটে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। পুলিশের প্রবাসীকল্যাণ সেলে দায়েরকৃত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছর সিলেট বিভাগে ৫৩জন প্রবাসী হয়রানির শিকার হন। আর চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ২৪জন প্রবাসী হয়রানির শিকার হয়েছেন।

সিলেট রেঞ্জের ডি.আই.জি কামরুল আহসান পিপিএম বলেছেন, প্রবাসীদের হয়রানিরোধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে কাজ করছে।

সিলেটের ডি.আই.জি অফিসের প্রবাসীকল্যাণ সেলে দেয়া অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত মোট ২৪টি অভিযোগ আসে। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগই হলো জায়গা-জমি সংক্রান্ত। এর পরেই রয়েছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ৫ অভিযোগ। আছে পারিবারিক বিরোধের ৪ অভিযোগও। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিযোগ এসেছে ৫৩টি। এর মধ্যে ২৮টি হলো জায়গা-জমি সংক্রান্ত। হুমকি পেয়ে অভিযোগ করেন ৬জন। আর পারিবারিক বিরোধে ৫ জন অভিযোগ করেন। হয়রানির শিকার প্রবাসীরা যুক্তরাজ্যের নাগরিক। অবশ্য গত ১৬ মাসে আসা ৭৭টি অভিযোগের মধ্যে বিভিন্নভাবে ৬৫টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করে দিয়েছে পুলিশ।

সিলেট রেঞ্জ ডি.আই.জি অফিসের পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।

রেঞ্জ ডি.আই.জি অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের চার মাসে ২৪টি অভিযোগ আসে প্রবাসীকল্যাণ সেলে। এর মধ্যে জায়গা-জমির ১০টি পারিবারিক বিরোধ ৪টি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ৫টি, অপহরণ-হুমকি সংক্রান্ত ৪টি ও অন্যান্য ১টি। এসকল অভিযোগের মধ্যে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ায় সামাজিকভাবে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে ৬টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়। মামলা রুজু ও নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশনের মাধ্যমে ২টি, নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে ৪টি, আপোস-মীমাংসার মাধ্যমে ২টি, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১টিসহ মোট ১৬টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করে পুলিশ। তবে বাকি ৮টি অভিযোগের কোনো সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, গত বছর দায়েরকৃত ৫৩ অভিযোগের মধ্যে ২৮টি ছিল জায়গা-জমি সংক্রান্ত। জালিয়াতির ১টি, পারিবারিক বিরোধ ৫টি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ৩টি, অপহরণের হুমকি সংক্রান্ত ৬টি ও অন্যান্য বিষয়ের অভিযোগ ছিল ৬টি। এর মধ্যে সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করার পরামর্শে নিষ্পত্তি করা হয় ১০টি, মামলা দায়ের ও নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তির সংখ্যা ৬টি, নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে নিষ্পত্তির সংখ্যা ৫টি, আপোস-মীমাংসার নিষ্পত্তির সংখ্যা ৭টি এবং ১১টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মোট ৪৯টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করে পুলিশ। তবে ৪টি অভিযোগের কোনো নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের মধ্যে গত ১৬ মাসে শুধুমাত্র সিলেট জেলায় ২৭জন হয়রানির শিকার হন। এর পরেই মৌলভীবাজারে হয়রানির শিকার হন ১০জন, সিলেট মহানগরীতে ১১জন, হবিগঞ্জে ৬জন এবং সুনামগঞ্জে ৭জন প্রবাসীর নিকট থেকে প্রবাসীকল্যাণ সেলে অভিযোগ আসে।

সিলেট রেঞ্জ ডি.আই.জি অফিসের পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নুরুল ইসলাম বলেন, বেশির ভাগই অভিযোগ আসে ভূমির বিষয়ে। ভূমি সীমিত- কিন্তু লোকজনের চাহিদারতো শেষ নেই তাই ভূমির প্রতি সকলেরই নজর থাকে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করি যাতে কোনো প্রবাসী হয়রানির শিকার না হন। এজন্যে আমারা সার্বক্ষণিক প্রবাসীদের সেবা দিচ্ছি। প্রবাসীদের জন্যে পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে। কারণ প্রবাসীরা হলেন দেশের অর্থনীতির প্রাণ।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা অর্থ দিয়ে জমি কেনার পর দেখেন জমির কাগজে জাল-জালিয়াতে ভরপুর। অনেক সময় নিকটাত্মীয় স্বজনরাও প্রবাসীদের সাথে প্রতারণা করেন। প্রবাসীদের প্রতি সহনশীল থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে সিলেটে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি অফিস স্থাপন জরুরি।

লন্ডনের নতুন দিন সম্পাদক ও লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী বলেন, জায়গা-জমি কেনার আগে দলিলপত্র ভালো করে দেখলে পরে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অনেকে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও বিরোধে জড়িয়ে যান। সম্পত্তি শালিসের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা হলেই সমস্যাও শেষ হয়ে যায়। এ বিষয়ের প্রতি পরিবারের শীর্ষ মুরুব্বির নজর দেয়া প্রয়োজন যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এখানে এসে অহেতুক ঝামেলায় না পড়েন। ব্রিটিশ হাইকমিশনের মাধ্যমেও অনেকে সহায়তা নেন। অনেকে আবার জমির খাজনা দেন না। ফলে পরবর্তীতে সমস্যায় পড়েন।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ সেলের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বুঝেছি আগের তুলনায় প্রবাসীরা এখন পুলিশের কাছ থেকে আরো বেশি সহযোগিতা পাচ্ছেন।

সিলেট রেঞ্জের ডি.আই.জি কামরুল আহসান পিপিএম বলেন, প্রবাসীকল্যাণ সেলে অভিযোগ আসামাত্রই পুলিশ এ্যাকশনে নামে। অনেক অভিযোগ আমরা নিষ্পত্তি করে দেই। আবার অনেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হয়। তবে দেশে থাকা স্বজনদের তাদের প্রবাসী স্বজনের প্রতি আরো আন্তরিক হওয়া দরকার। কারণ প্রবাসীরাতো কেবল দেশেরই নয় ঐ পরিবারেরও প্রাণ।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যায় প্রবাসীকল্যাণ সেল সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। প্রবাসীদের জন্যে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।

(আজকের সিলেট/৫ মে/ডি/এসডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ