আজ মঙ্গলবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

জামায়াতের ‘ভোট’ গেলো কোথায়?

  • আপডেট টাইম : আগস্ট ১, ২০১৮ ১২:০১ অপরাহ্ণ

অতিথি প্রতিবেদক : রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি থেকে প্রার্থী দেওয়ায় দলটির রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দেয়নি। তবে সিলেট সিটিতে মেয়র পদে বিএনপি থেকে প্রার্থী দেওয়ার পরও জামায়াত নিজের অবস্থানে অনড় থেকে প্রার্থী দেয়। জামায়াতের মেয়র প্রার্থী যাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় সেজন্য জন্য নানা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বিএনপি। সিলেটে প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপির-নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াত এমন শক্ত অবস্থান নেওয়ায় প্রশ্ন ওঠে, সিলেট সিটিতে জামায়াতের ভোট আসলে কত? এর সঠিক কোনও পরিসংখ্যান না থাকলেও জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই অঞ্চলে তাদের ‘বিশাল ভোট ব্যাংক’ রয়েছে।

সোমবার রাতে ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টির ভোট গণনা শেষে ঘোষিত বেসরকারি ফলে দেখা যায়, জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের টেবিল ঘড়ি প্রতীকে ভোট পড়েছে ১০ হাজার ৯৫৪টি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ভোট ব্যাংক নিয়ে কি জামায়াতের ভুল ধারণা রয়েছে? আর ধারণা যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে সিলেট সিটিতে জামায়াতের ভোট গেলো কোথায়?

জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলটির মেয়র প্রার্থী যাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তার জন্য সব রকমের চেষ্টা করে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে ২০ দলীয় জোটের বেশ কয়েকটি বৈঠকও হয়। রাজশাহী ও বরিশাল থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও সিলেটের ব্যাপারে জামায়াত অনড় ছিল। এ ব্যাপারে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা দাবি করেন, এ অঞ্চলে তাদের ভোটার অনেক এবং এ সিটিতে তারা জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দলটির সেই আশা হতাশায় রূপ নেয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটের ফলাফল জেনে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতারা।

এদিকে, সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, জামায়াতের টার্গেট ছিল বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে পরাজিত করা। গত সিটি নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরী প্রায় ৩৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। জামায়াতের নেতারা ভেবেছিলেন, তাদের প্রার্থী ওই ৩৩ হাজার ভোটে ভাগ বসাতে পারলে আরিফের পরাজয় নিশ্চিত। এবার সিলেটে মেয়র পদে কোনও প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি হেফাজতে ইসলাম। এ কারণে আরিফকে পরাজিত করার আশা নিয়ে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

বিএনপি নেতাদের দাবি, সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ৪০-৫০ হাজারের ওপরে ভোট পাবেন বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেছিলেন। তবে দলটি তাদের অনুগতদের ভোট পেলেও সিটির সাধারণ ভোটারদের ভোট পায়নি।

অন্যদিকে, সিটির সাধারণ ভোটারদের ভোট পাওয়ায় প্রথম স্থানে রয়েছেন আরিফ। আর এ কারণে জামায়াতের দাবিকৃত ভোট সংখ্যা ও প্রাপ্ত ভোট সংখ্যার মধ্যে এত ব্যবধান।

জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেটে আমাদের ভোটার অনেক। এ সিটিতে জামায়াতের নিশ্চিত জয় দেখেই সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির উৎসবে মেতেছিল। ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় শতাধিক কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি হয়েছে; জামায়াতের ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি। ওই সব কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে তাদের (জামায়াতের ভোটার) জানানো হয় ব্যালেট পেপার শেষ।’

বিশাল ভোটের টার্গেট থাকার পর জামায়াত প্রার্থীর কম ভোট পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে আমাদের এজেন্টদের বের করে জাল ভোট দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আর বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক কীভাবে এত ভোট পেলেন এটাও আমরা বুঝতে পারছি না। আরিফুল হককে জামায়াতের ভোটাররা ভোট দেননি। এটা ঠিক, আমরা জোটের বন্ধু। কিন্তু সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াত চলেছে তার একক সিদ্ধান্তে।’

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘সিলেট সিটি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আবারও প্রমাণ হয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি না থাকলে তাদের অস্তিত্বই থাকবে না। সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এত ভোট পেতেন না যদি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা নেপথ্যে না থাকতো। জোটের শরিক দল হলেও তারা আমাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী ও বরিশালে বিএনপির প্রার্থীকে জামায়াত সমর্থন দিলেও সিলেটে তারা (জামায়াত) আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য নিরবে কাজ করেছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘প্রচারণার দিনগুলোতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিল বহিরাগতরা। জামায়াত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দৈনিক মজুরিতে লোকজন এনেছিল।’

উল্লেখ্য, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট পান বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পান ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। এদিকে, ১০ হাজার দুইশ’ ৫৪ ভোট পান জামায়াতের মেয়র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ সিটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন।

(আজকের সিলেট/১ আগষ্ট/ডি/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ