আজ মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

মৌলভীবাজার ৩ : মাঠে দুই দলের একাধিক প্রার্থী

  • আপডেট টাইম : অক্টোবর ২২, ২০১৮ ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। ফলে আ’লীগ, বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উপদলীয় কোন্দল বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এতে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন সরব হয়ে উঠছে। জেলা সদর থেকে শুরু করে হাইকমান্ডের দলীয় নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঘনিষ্ট যোগাযোগ শুরু করেছেন। বিশেষ করে আ’লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় নিজ নিজ বলয়ে নেতাকর্মীকে কৌশলে ধরে রাখার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা নিয়ে মৌলভীবাজার ৩ আসন গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৯১,১৪৯ জন। সদরে পূরুষ ভোটার ১,১৮,৭৬৪ এবং নারী ভোটার ১,১৫,৫৩০ জন। রাজনগরে পূরুষ ভোটার ৭৮,২৮৩ এবং নারী ভোটার ৭৮,৫৭২ জন। এখানে চা শ্রমিক ভোটার ৫০ হাজারের উপরে রয়েছে।

জেলা আ’লীগ নেতৃবৃন্দের একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে একাধিক নেতা মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সালিশ বৈঠক, বিবাহ অনুষ্ঠান, বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যোগদান করে জনসংযোগ করছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আ’লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে এগিয়ে আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি নেছার আহমদ পিছিয়ে নেই বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন। তাঁর প্রয়াত স্বামী সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর কল্যাণে কেন্দ্রে এবং জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টিতে রয়েছেন তিনি।

এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার বলিষ্ট অবস্থানে রয়েছেন সাবেক বিট্রিশ কাউন্সিলার ও বিট্রিশ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এম এ রহিম (সি আই পি)। এছাড়াও এখানে জনপ্রিয় পৌর মেয়র ফজলুর রহমান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন। তিনিও জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়াও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও মৌলভীবাজার কলেজ সংসদের সাবেক ভিপি আব্দুল মালিক তরফদার সুয়েব।

স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন দৌড়ে। পূজাকে সামনে রেখে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা।

মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০০০-২১ বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর ছিলেন আমার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলী। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আ’লীগের হাইকমান্ড এর মূল্যায়ন করবেন।

ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয় নেতা এমএ রহিম (সিআইপি) বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে দেশ ও দলের জন্য অনেক ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেছি। সে সময় মৌলভীবাজারের প্রতিটি স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করি। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার কারণে কারাবরণ করতে হয়েছে।

৭ মে ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আগমন করলে ১৮ দিন কারাবরণ করতে হয়। আমার বিশ্বাস দল আমাকে মনোনয়ন দেবে এবং নির্বাচনের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। সিআইপি রহিম বলেন ১/১১ এ প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য যে কাজ করেছেন তার ধারাবাহিকতায় তিনি দলীয় নমিনেশন পাবেন এবং নেত্রী তাকে মূল্যায়ন করবেন।

সম্ভাব্য প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পরকায়স্থ বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে ঐকান্তিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। জননেত্রী আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দিলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সদা প্রস্তুত রয়েছি।

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মিছবাউর রহমান বলেন, জেলা সভাপতি নেছার আহমদকে মনোনয়ন দিলে আসনটি ধরে রাখা সম্ভব। তবে তিনি আরও বলেন নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষেই কাজ করবে জেলা আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে মৌলভীবাজার জেলায় আ’লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি সাংগঠনিকভাবে নেতাকর্মীরা সংগঠিত না হলেও জন সমর্থনের দিক দিয়ে সংগঠন পিছিয়ে নেই। বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান, সাবেক মহিলা এমপি এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেদা রব্বানী। এছাড়াও অনেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানাগেছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানূর রহমান বলেন মাধ্যমিক স্কুল থেকে ছাত্রদল রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত আজ মানুষের ভালবাসায় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। বিএনপির চেয়ারপার্সনসহ হাইকমান্ড আমার দলীয় ঐকান্তিকতার প্রতি জানেন। তিনি বলেন দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই তিনি কাজ করবেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি এম নাসের বলেন, ২০১৮ সালের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির হাইকমান্ড মৌলভীবাজার-৩ আসনে আমাকেই মনোনয়ন দেবে এবং বিএনপি প্রার্থীরা ২৫০’র বেশী আসনে বিজয়ী হবে।

এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে জেলা সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন। তবে ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ শাহাব উদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ