আজ শুক্রবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

ব্রীজর ‘ভরসা’ সাঁকো

  • আপডেট টাইম : November 3, 2018 7:00 AM

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের বানিংয়াচং উপজেলার হাওর এলাকার শেষ প্রান্তে কুমড়ী বাজার ও ফেরেঙ্গিটিলা গ্রামের মাঝে সংযোগ স্থাপনকারী ব্রীজটি ব্যবহার করতে উভয় দিকে তৈরি করা হয়েছে বাশের সাঁকো। ফলে ঝুকি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে এই ব্রীজটি দিয়ে। ব্রীজটিও ঝুকিপূর্ণ থাকায় দুর্ঘটনার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর পূর্বে কুমড়ী বাজারের পাশে খালের উপর একটি ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। এই ব্রীজ দিয়ে বানিয়াচং উপজেলার ফেরেঙ্গিটিলা গ্রামবাসীসহ পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জের অস্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন কমদচারসহ উপজেলার ৭/৮ গ্রামের লোকজন কুমড়ী বাজারে আসেন। সপ্তাহের বুধবার ও শনিবার এখানে হাঠ বসে। এছাড়াও কুমড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে আসতে হয় এই ব্রীজ দিয়ে। কিন্তু বর্ষাকালে ব্রীজের উভয় দিকে পানির নিচে থাকায় এলাকাবাসী সেখানে বাশের সাঁকো তৈরি করে। ফলে ব্রীজ থাকলেও এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায়না। কারন এর উপর দিয়ে কোন রিক্সা বা যানবাহন যেতে পারে না। আর শুকনো মৌসুমে লোকজন ব্রীজের নিচ দিয়েই চলাচল করে। ফলে ওই সময় ব্রীজটি ব্যবহার করা হয় না।

কুমড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও হবিগঞ্জের আইনজীবী এডভোকেট আইয়ূব আল আনসারী জানান, ৫/৬ বছর যাবৎ শোনা যাচ্ছে ব্রীজের উভয় পার্শ্বে মাটি ভরাট করা হবে। কিন্তু বাস্তবে কোন কাজই হচ্ছে না। বর্ষকালে এই ব্রীজের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এর জন্য আলাদাভাবে সাঁকো তৈরি করতে হয়। শুকনো মৌসুমে ব্রীজের নিচ দিয়েই চলাচল করে লোকজন। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রীজটি ব্যবহার করা অনেক ঝুকিপূর্ণ। অপর আরেক ব্যক্তি তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ব্রীজের উভয় পাশে যেমন সংযোগ নেই তেমনিভাবে ব্রীজটিও অনেক পুরনো। যে কোন সময় এটি লোকজনসহ ভেঙ্গে যেতে পারে। তিনি উভয় পাশে সংযোগ সড়কসহ নতুন করে ব্রীজটি নির্মাণের দাবি জানান।

কুমড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার জানান, স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী এই ব্রীজ দিয়ে যাতায়াত করে। বাশের সাঁকো ব্যবহারে দুর্ঘটনার অনেক ঝুকি থাকে।

পৈলারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান জানান, এখানে নতুন করে ব্রীজ নির্মাণ করার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা পরিষদ ও সংসদ সদস্যকেও অবগত করা হয়েছে। আশা করা যায় শীঘ্রই এখানে নতুন করে ব্রীজ নির্মাণ করা হবে। একই সাথে উভয় দিকে মাটির ভরাটও করা হবে। এতে করে আলাদা কোন সাঁকোর প্রয়োজন হবে না।

এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব পাল জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে এই ব্রীজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য সংসদ সদস্যের ডিও লেটারসহ একটি প্রস্তাব প্রেরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করা যায় দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ