আজ শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

‘নতুন’ নেতৃত্বের প্রত্যাশা আ.লীগ নেতাকর্মীদের

  • আপডেট টাইম : May 2, 2019 8:13 AM

দেবব্রত রায় দিপন

সিলেট : বিভাগীয় প্রতিনিধি সভাকে কেন্দ্র করে সরব হয়ে উঠেছেন সিলেট আওয়ামী পরিবারে সদস্যরা। দীর্ঘদিন থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে বছরের পর বছর সাংগঠনিক কার্যক্রম চললেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাতে ভ্রুক্ষেপ করেননি। ফলে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় কার্যক্রম নিয়ে স্তবিরতা দেখা দেয়।

সৃষ্টি হয় চাপা ক্ষোভ। অভিভাবক সংগঠনের দলীয় নিস্কৃয়তার প্রভাব পড়ে সহযোগী সংগঠনগুলোতেও। ফলে সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও একইভাবে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠে। গ্রুপ-উপগ্রুপ দ্বন্দ্ব চলমান থাকা অবস্থায় বিগত সংসদ নির্বাচন, সিসিক নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে দলটি। নির্বাচনের আগ থেকেই তৃণমুল থেকে দল গোছানোর দাবি আসলেও নির্বাচনের সুর তুলে সে যাত্রায় দল গোছাতে মনোযোগী হয়নি আওয়ামী লীগ। তবে, নির্বাচনের পরপরই এই দাবি আরো জোরালো হয়ে উঠে। সহযোগী সংগঠনগুলোর অবস্থাও একই রকম। জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের পাশাপাশি মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে জেলা যুবলীগের। মহানগর যুবলীগ চলছে আহবায়ক কমিটি দিয়ে। ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল হয়েছে একাধিকবার।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ সহ একাধিক অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিকে। নতুন করে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কয়েকশ সিভি সংগ্রহ করা হলেও নতুন কমিটি গঠনের বার্তা নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে। সবকিছু মিলিয়ে দলীয় বৈরি পরিবেশের মধ্য দিয়ে কোনোমতে ঠিকে আছে সিলেট আওয়ামী পরিবার। এ অবস্থায় নের্তৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার আহবান জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

দলের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভাকে কেন্দ্র করে এই দাবি আরো জোরালো হচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি-বিগত কমিটির কার্যক্রম যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করেই এবার নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় রয়েছেন তারা। ৫ মে সিলেটে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশী তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

ওইদিন সকাল ১১টায় সিলেট নগরীর রিকাবিবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে এ প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে দলীয় সুত্রে জানাগেছে। প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত থাকবেন- সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টান্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাসদ নুরুল ইসলাম নাহিদ, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ। প্রতিনিধি সভায় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, সুনামগঞ্জ,মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই সকল জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোতে সম্মেলনের নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী। দলীয় সভানেত্রীর ঘোষণার পর সারাদেশে ৮ টি সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করেছে দলটি। সাংগঠনিক টিম নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগগুলোতে সফর করার মধ্য দিয়ে দলীয় কর্মীদের প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টির পাশাপাশি দলে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনায় সচেষ্ট হবেন।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয় ২০১১ সালে। মেয়াদ শেষ হয়ে এই কমিটি ৫ বছর পূর্ণ করলেও সম্মেলনের মুখ দেখেনি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। একই অবস্থা জেলা যুবলীগের। ২০০৪ সালের এই কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। মহানগর যুবলীগ গঠন হয় ২০১২ সালে আহবায়ক কমিটি দিয়ে । এই আহবায়ক কমিটি আজও দিতে পারেনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় চলছে মহানগর যুবলীগ।

জানতে চাইলে সিলেট মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মুশফিক জায়গীরদার বলেন, ৫ মে সিলেটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা। প্রতিনিধি সভায় যেহেতু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আসছেন, সে হিসেবে মহানগর যুবলীগের সম্মেলনের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে ছাত্ররাজনীতির হাত ধরে উঠে আসা কর্মীদের দলে মূল্যায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।

জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ বলেন, প্রতিনিধি সভায় নির্ধারিত এজেন্ডার বিষয়ে আমি অবগত নই। প্রতিনিধি সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে দাবি থাকবে- দলের সম্মেলনের বিষয়ে দ্রুত একটি নির্দেশনা। তিনি মনে করেন, সম্মেলনের মাধ্যমে যুবলীগের আগামীর নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। যাদের হাত ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের স্বদেশ নির্মাণ সম্ভব হয়ে উঠবে।

দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ প্রতিনিধি সভার বিষয়ে বলেন, ২০২০ সালে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করা হবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। পরের বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। চলতি বছরেই আবার দলটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন। সব মিলিয়ে গৃহিত সকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়েই মূলত এই প্রতিনিধি সভা। হয়তোবা মেয়োদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী বলেন, প্রতিনিধি সভার আলোচ্য বিষয় জানা না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে দল গোছানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে সম্মেলন না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় চাঞ্চল্যবোধের অভাব রয়েছে যথেষ্ট। ফলে দ্রুত সম্মেলন করার মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ করে দেওয়া সময়ের দাবি। তবে, প্রতিনিধি সভায় দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে ঘিরে গৃহিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানালেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, জেলা ও মহানগরের সম্মেলন নিয়ে কোনো আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মূলত: বিভাগের প্রত্যেক জেলা উপজেলা পর্যায়ে দল ও নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা এবং কেন্দ্রীয় সম্মেলন বিষয়ে আলোচনা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ