আজ সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

এক সেতুতে বদলে যাবে দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য চিত্র

  • আপডেট টাইম : নভেম্বর ২, ২০১৯ ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : জকিগঞ্জ সীমান্তের কাস্টম ঘাটে ভারতের করিমগঞ্জের সাথে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবী দীর্ঘদিনের। ৪-৫ বছর পূর্বে দু’দেশের যৌথ নদী কমিশনের এক বৈঠকে একটি সেতু নির্মাণের দাবী উত্থাপিত হলেও তা আজ অবধি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে নৌকা দিয়ে পারাপার করতে হয় মালামাল। এতে আমদানী রপ্তানীতে যেমন ব্যবসায়ীদের অনীহা বাড়ছে, তেমনি খরচও বাড়ছে দ্বিগুণ।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর ঐ বছরই জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের কাজ চালু হয়। তৎকালীন করিমগঞ্জ মহকুমার মধ্য দিয়ে কুশিয়ারা নদী প্রবাহিত যা দু’দেশের সীমান্তে পরিণত হয়ে একই এলাকার জনগনকেও দু’ভাগে বিভক্ত করে ফেলে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রায় অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি বা কুশিয়ারা নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখানে কুশিয়ারা নদীর উপর ব্রীজ নির্মিত হলে দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।

এ স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে বিভিন্ন ফল-ফলাদি যেমন, আপেল, আঙ্গুর, কমলা, মালটা, পান আমদানি হয় এবং অনেক লোকজনও যাতায়াত করেন। এছাড়া নৌকাযোগে মালামাল পারাপারে খরচ দ্বিগুন হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ স্টেশন দিয়ে মালামাল আনতে অনীহা প্রকাশ করেন। যার ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের জকিগঞ্জ ও ভারতের করিমগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে একটি স্থলবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবং পরবর্তীতে একটি ব্রীজ নির্মানেরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জকিগঞ্জের পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী খলিল উদ্দিন বলেন, এখানে ব্রীজ নির্মাণের দাবী জকিগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবী। এখানে ব্রীজ নির্মিত হলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে ও দেশের রাজস্ব আয় বাড়বে।

জকিগঞ্জ আমদানি ও রপ্তানি কারক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, নৌকা দিয়ে মালামাল পারাপার করাতে খরচ দ্বিগুণ হওয়াতে ব্যবসায়ীরা এ শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রপ্তানি করতে অনীহা প্রকাশ করে। শীঘ্রই এখানে ব্রীজ নির্মানের দাবি জানান তিনি।

জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল কোর্টের আইনজীবী কাওছার রশীদ বাহার বলেন, প্রায় ৪ বছর আগে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব যৌথ নদী কমিশনে উত্থাপিত হলেও তা রহস্যজনক কারণে স্তিমিত হয়ে যায়।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ