আজ বুধবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড়

  • আপডেট টাইম : September 5, 2017 10:11 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের ছুটিতে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসু এসেছেন পর্যটন নগরী সিলেটে। ‘প্রকৃতি কন্যা’ জাফলং, ‘পাথরের বিছানা’ খ্যাত বিছনাকান্দি, স্বচ্ছ নীল জলের লালাখাল,পানতুমাই ঝর্ণা ও মিঠাপানির সোয়াম ফরেস্ট- রাতারগুলের মনভোলানো দৃশ্যপট দেখতেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে এসেছেন পর্যটকরা।

এছাড়া নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও রয়েছে সব বয়সী মানুষের ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সাথে নেচে-গেয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন তারা।

সারিবদ্ধ চা বাগান, সবুজের সমারোহ, উঁচু-নিচু পাহাড়-টিলা, গহীন অরণ্য আর ঝর্ণাধারায় মেতেছেন ঈদ আনন্দে। এছাড়া হযরত শাহজালাল ও শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারকে ঘিরেও বেড়েছে ভক্তদের আনাগোনা।

সিলেটের জাফলং, লালা খাল, খাসিয়াপুঞ্জি, রাতারগুল, লোভাছড়া, পানতুমাই, বিছনাকন্দি ছাড়াও প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রে রবিবার পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে।

উঁচু পাহাড়, স্বচ্ছ জল, রকমারি নুড়ি পাথরের সমন্বয়ে গড়া আসাম সীমান্তবর্তী জাফলং। যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে একটু প্রশান্তির জন্য অনেকেই ছুটে আসেন সিলেটে।

ঈদের ছুটিতে জাফলংয়ে ভিড় করেছেন হাজারো পর্যটক। সীমান্তের ওপারে থাকা ভারতীয় পাহাড় ডাউকি থেকে অবিরাম ধারায় বহমান জলপ্রভাত, মায়াবী ঝর্ণা, ঝুলন্ত ডাউকি সেতু, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জল, উঁচু পাহাড়ের গহীন অরণ্যের সুনসান নীরবতায় মুগ্ধ তারা।

রাজশাহী থেকে আসা রবিউল ইসলাম জানান, জাফলং এক কথায় অসাধারণ। পাহাড়ি ঝর্ণধারা,পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জল যে কারো মন ভুলাবে। আমি মুগ্ধ।

শুধু জাফলং নয়, জাফলংয়ের পথেই যাওয়া যায় লালাখাল। যেতে হয় স্পিডবোটে। নদীর স্বচ্ছ পানিতে নৌকাভ্রমণ, আর লালাখাল পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতিই আলাদা।

দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলার বন রাতারগুল। এটি মূলত সোয়াম্পফরেস্ট। বর্ষায় ৮-১০ ফুটের মতো পানি থাকে, শীতে শুকিয়ে যায়।

জলারবনে হিজল, করচ, বনজাম, জংলিবট আর মুরতা নামে গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের ছড়াছড়ি। জলমগ্ন গাছগুলো যেন গলাগলি করে থাকে। গাছের ডালপালা ছাপিয়ে যাওয়া লতা-গুল্ম মিলে বিশাল এক সবুজ চাঁদোয়া গড়ে তোলে। স্বচ্ছ জলে এই চাঁদোয়ার ছবি ফুটিয়ে তোলে অপরূপ এক দৃশ্য। জল আর গাছের মিতালী দেখতে এখানে এবার ঈদেও ভিড় করেছেন পর্যটকরা।

রাতারগুলের বুনোজল ঘুরে বেড়ানোর বাহন নৌকা। ডিঙি নৌকার চড়ে জল আর বনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেন পর্যটকরা।

রাতারগুলে ঘুরতে আসা খুলনার কবির হোসেন বলেন, এটি অনেকটা সুন্দরবনের মত। নৌকায় চড়ে ভাসমান বনের সৌন্দর্য বিমোহিত করে সবার মন।

পাহাড়-পাথর আর নদীর মিতালী দেখতে সিলেটের গোয়াইনঘাটের বিছনাকন্দিতেও বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা।

ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা জলের স্রোতে ভেসে আসছে পাথরের টুকরা। পাথর ছুঁয়ে জল গড়িয়ে মিশে যাচ্ছে পিয়াইন নদীতে। সেই পাথর ছোঁয়া জলে অপরূপ রূপ ধারণ করে আছে প্রকৃতির অপ্সরা বিছনাকান্দি।

ডুবুডুবু পাথর আর জলখেলার দৃশ্যে এ অপ্সরা মুহূর্তেই মন কেড়ে নেয় যে কোনো সৌন্দর্য পিপাসুর। এ যেন এক পাথুরে বিছানায় বিছনাকান্দির নিবাস।

এখানে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ঢাকার কামাল হোসেন বলেন, রাস্তাঘাট খারাপ থাকায় আসতে কিছুটা কষ্ট হলেও পাথরের বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই সব কষ্ট যেন চলে গেল। অসাধারণ জায়গা। বারবার আসতে মন চাইবে যে কারো। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি খুব সবাই।

সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে পর্যটকরা এসেছেন। তাদের নিরাপত্তায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

(আজকের সিলেট/৫ সেপ্টেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ